আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আহবান

নারী মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে নিন
পুঁজি ও সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদ করে
সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন

সংগ্রামী বন্ধুগণ,
৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯০৯ সাল থেকে শ্রমিক শ্রেণী, বিশেষ করে শ্রমিক নারীদের নেতৃত্বে, আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দেশে দেশে শ্রমিক শ্রেণী এ দিবসে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খল ভাঙ্গার শপথ নেবে। শপথ নেবে মজুরী দাসত্ব থেকে মুক্তির, পুঁজি ও সম্পত্তির উপর ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদের। এই দিবস পালনের মধ্য দিয়ে সারা দুনিয়ার শ্রমিক নারীরা ঐক্যবদ্ধ হবেন ও শোষণমূলক ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করবেন।

বন্ধুগণ,
সংগ্রামের এই আন্তর্জাতিক দিনটিকে তার জঙ্গী শ্রেণী চেতনা, আন্তর্জাতিকতা এবং সংগ্রামের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পুঁজিপতি শ্রেণী ও সাম্রাজ্যবাদীরা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। পুঁজিপতিশ্রেণীর সেবাদাস সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও এনজিও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সংগ্রামী শ্রেণী চেতনা ধ্বংসে মাঠে নেমেছে। পুঁজিবাদী সমাজের শোষণ লুন্ঠন নির্যাতন ও বৈষম্যের দিকটিকে আড়াল করতে এরা তৎপর। দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে অতীতে নারী মুক্তি সংগ্রামে যে অগ্রগতি হয়েছিল তাকে এরা এড়িয়ে যায়। এরা নারী মুক্তির প্রধান বাধা হিসেবে ‘পুরুষতন্ত্র’কে সামনে নিয়ে এসে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে সক্রিয় রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকারী বামপন্থী ও কমিউনিস্ট নামধারী দল ও ব্যক্তিবর্গ এই চক্রান্তকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে একই কাজ করছে।

বন্ধুগণ,
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের দাবি গার্মেন্টস শিল্প সহ সকল কারখানায় শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার, নিয়োপত্র, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, মনুষ্যোচিত মজুরী, মাতৃত্বকালীন সবেতন ৬ মাসের ছুটি দিতে হবে। রাত্রিকালীন কাজ নিষিদ্ধ করতে হবে। বিবাহ ও পারিবারিক অধিকারের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমতা কায়েম করতে হবে। সর্বত্র নারীর উপর সংহিসতা বন্ধ করতে হবে।

বন্ধুগণ,
বাংলাদেশে গত ৩৮ বছর ধরে লুটেরা সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজ শাসক শ্রেণীর সরকার-জাতীয় সংসদ-সংবিধান শ্রমিক-কৃষকসহ নিপীড়িত জাতির উপর শোষণ লুন্ঠন ও ফ্যাসিবাদী শাসন জারী রেখেছে। বকেয়া বেতন, ওভার টাইমের দাবিতে শ্রমিকরা রাজপথে নামলে সরকারের পুলিশ শ্রমিকদের উপর গুলি চালায়, হত্যা করে। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার গত ১৪ মাসে গুলি করে ৫ জন শ্রমিককে হত্যা করেছে। মালিকদের অবহেলার কারণে ২৬ জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেছে। পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়িতে বাঙালি সেটেলার ও সেনা সদস্যদের হামলায় পাহাড়ী নারী বুদ্ধিপুদি চাকমা সহ ২ জন নিহত হয়েছেন। জনগণের সভা-সমাবেশের উপর পুলিশ বাধা দিচ্ছে, শ্রমিক আন্দোলন দমন করতে সরকার শিল্প পুলিশ গঠন করছে। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে আটককৃতদের সরকার বিনাবিচারে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করে চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তি সংগ্রাম দমনে ভারত সরকারের সাথে হাসিনা সরকার এক দমনমূলক চুক্তি করেছে এবং বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চলেছে। বিশ্বব্যাপী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থেকে হাসিনা সরকার এ কাজ করছে।

সংগ্রামী বন্ধুগণ,
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাই আসুন বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের সাথে ঐক্যবদ্ধ হই। সারা দুনিয়ার মেহনতি মানুষের ঐক্য ও সংগ্রামকে শক্তিশালী করি। নারী মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে নিতে বাংলাদেশে বড়লোক শাসকশ্রেণীর শাসন উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করি।
দুনিয়ার মজদুর এক হও !
আন্তর্জাতিক নারী দিবস জিন্দাবাদ!
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
১৭/২ তোপখানা রোড, ৩য় তলা (শ্রমজীবী স্বাস্থ্য সেবা), ঢাকা। মোবা: ০১৭১৩ ০৬৩৭৭৬। ৭ মার্চ ২০১০

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: