জাতীয় মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ ও তাবেদার শাসক শ্রেণী বিরোধী বামপন্থী ঐক্য গড়ে তোল

 

বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সংগঠনী কাউন্সিলের (জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল) এক বছর পূর্ণ হলো। এই এক বছরে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে খুব বড় ধরনের কোন পরিবর্তন না হলেও কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
গত বছরের ২৪শে অক্টোবর জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে আহুত জাতীয় কনভেনশনের আহ্বানপত্রে এবং কনভেনশন অধিবেশনে আমরা বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর ভাঙনের কথা বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম অর্থনীতি, প্রশাসন, বলপ্রয়োগকারী সংস্থা সমূহ, আদালত ও বিচার ব্যবস্থা, বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক দলসমূহ এমন বিশৃংখলা, নৈরাজ্য ও সংকটের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়েছে যা কাটিয়ে ওঠা এই শাসক শ্রেণীর পক্ষে সম্ভব নয়। উপরন্তু এ সবই এদেরকে দ্রুত ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে দেবে।
এদিক দিয়ে এক বছর আগে যে অবস্থা ছিল তার থেকে শাসক শ্রেণীর অবস্থা এখন আরও সংকটাপন্ন হয়েছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এখন এদের বিপর্যস্ত অবস্থা। এই বিপর্যস্ত অবস্থায় এরা সামগ্রিকভাবে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষতঃ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ওপর আরও বেশী নির্ভরশীল হয়েছে। ভারতের হুকুমবরদারীও এদেরকে করতে হচ্ছে আগের যে কোন সময়ের থেকে বেশী।
বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর একটি মস্ত দুর্বলতার দিক হলো, এর প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে এমন শত্র“তামূলক সম্পর্ক যা এদেরকে শ্রেণীগতভাবে জাতীয় পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের স্বার্থ সম্পর্কে যথাযথভাবে সচেতন হতে দেয় না। শ্রেণী স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ওপরে উঠে দেখার ক্ষমতা এদের বিশেষ নেই। এটাই ইউরোপীয় এবং আমেরিকান বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর সাথে তো বটেই, এমনকি ভারতীয় বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর সাথে বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর একটা বড়ো পার্থক্য।
প্রশাসন, পুলিশ মিলিটারীসহ সকল প্রকার বলপ্রয়োগকারী সংস্থা, আদালত, প্রচার মাধ্যম এবং অর্থনৈতিক শক্তি সব কিছু সত্ত্বেও এই শাসক শ্রেণী দেশের কোন সংকটজনক পরিস্থিতি ঠিকমত মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। অর্থনীতি ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি ও লুন্ঠন, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাস, বিচার ব্যবস্থা, বন্যা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কোন কিছুই আজ এদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে তেমন নেই। বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে মনে হয়, সব কিছুই এক গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চলছে। গত এক বছরে এর আরও অবনতি ঘটেছে।
নব্বই এর নাগরিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা নতুন করে চালু হলেও শাসক শ্রেণীর দুই প্রধান দলের পারস্পরিক শত্র“তার সম্পর্কের জন্য তা প্রথম থেকেই অকার্যকর হতে শুরু করেছিল। এই অকার্যকারিতার ফলে জাতীয় সংসদ কোন সময়েই একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতে পারে নি এবং এক যুগেরও বেশী সময় সংসদে বিরোধী দলের বিশেষ অংশ গ্রহণ না থাকায় জাতীয় সংসদ সব সময়েই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বা জোটের সংসদীয় কমিটির বৈঠকের মতই কাজ করে আসছে। এই জাতীয় সংসদে আজ পর্যন্ত কোন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয়েই আলোচনা ও বিতর্ক হয় নি। সরকার কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় সংসদের অনুমোদন নেয় নি। এর প্রয়োজন পর্যন্ত এরা কোন সময়ে অনুভব করে না।
এই ধরনের একটি জাতীয় সংসদ যে জাতীয় জীবনে, এমনকি বুর্জোয়া শাসন ব্যবস্থায় কোন ভূমিকা রাখতে পারে না, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ দেশে জাতীয় সংসদ নয়, নির্বাচনই হলো আসল গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার! কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে একটি সরকার গঠিত হয় এবং সব রাজনৈতিক তৎপরতার আসল লক্ষ্য এই সরকার গঠন। এইভাবে সরকার গঠিত হওয়ার ঠিক পরই জাতীয় সংসদের ভূমিকা কার্যকরভাবে শেষ হয়। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী নির্দ্দিষ্ট সময়ে সংসদের অধিবেশন ডেকে কোন প্রকৃত বিতর্ক এবং আলোচনা ছাড়াই মন্ত্রী সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইন পাশ হয়। দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ এইভাবে রাবার স্ট্যাম্প হিসেবেই কাজ করে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার সব থেকে হাস্যকর দিক (পড়সরপধষ ধংঢ়বপঃ) হলো, নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদ একটি সরকার গঠন করার পর থেকেই বিরোধী দল কর্তৃক সংসদ বর্জন এবং প্রায় সাথে সাথেই নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী। এই দাবীর কোন প্রকৃত গণভিত্তি না থাকায় বিরোধী দলের শত চীৎকার সত্ত্বেও প্রত্যেক বারই জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রীসভা তাদের মেয়াদ পূর্ণ করার পরই নতুন নির্বাচন হয়।
শাসক শ্রেণীর দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে চরম শত্র“তা এবং অনাস্থার কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯০ সালের পর থেকেই চালু রয়েছে। নতুন জাতীয় সংসদ ও সরকার গঠনের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল কাজ। পর পর তিনটি নির্বাচন এভাবে হলেও এখন শাসক শ্রেণীর আভ্যন্তরীণ সংকট এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যাতে বিরোধী দলগুলি তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেও আর নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কার্যকর মনে করছে না। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কারের নামে এরা যা করতে চাইছে তা পরিস্কার নয়। তাছাড়া সরকারী দলের কোন সম্মতিই এতে নেই। দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য সরকারের পকেটে থাকার কারণে এই সংস্কারের উদ্দেশ্যে কোন সাংবিধানিক সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া সম্ভব নয়। সমগ্র নির্বাচন ব্যবস্থা এভাবে এখন এক নতুন সংকটের মধ্যে পড়ে পুরো শাসন ব্যবস্থাকেই এক চরম বিপর্যয় ও নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বিপর্যয়ের মধ্যে ও নৈরাজ্যিক পরিস্থিতিতে শাসন ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সাম্রাজ্যবাদী মহল থেকে কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাজনৈতিকভাবে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা হচ্ছে। গণফোরাম ও বিকল্প ধারাকে একত্রিত করে তারা বিএনপি আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করছে, যাতে ভবিষ্যতে তাদেরকে সামনে রেখে একটি “জাতীয় সরকার” গঠন করা সম্ভব হয়। সাম্রাজ্যবাদ ও তার সাথে সম্পর্কিত, পর্দার অন্তরালে অবস্থিত, দেশীয় কিছু শক্তি যে এই চক্রান্তের সাথে যুক্ত তাতে সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশের সংসদীয় বামপন্থীদের অবস্থান ও অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যাবে যে, বিগত এক বছরে এদের মধ্যে, বিশেষতঃ এদের জোট বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
এই পরিবর্তনের সব থেকে লক্ষ্যণীয় দিক হলো, বামফ্রন্ট এবং এগারো দলের অস্তিত্ব বিলুপ্তির দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। এদের জোটগত আন্দোলনের কর্মসূচী বলেও এখন আর কিছু নেই। এক বছর পূর্বে আমাদের ২৪শে অক্টোবরের কনভেনশনের সময় তারা তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির ব্যানারে যে ‘লং মার্চ’ ঢাকা থেকে মংলা পর্যন্ত করেছিল সেটিই ছিলো তাদের শেষ বড় ধরনের কর্মসূচী। এখন এই কমিটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়েছে। টাটা কোম্পানী ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করে বাংলাদেশ সরকারের থেকে সস্তায় ২০ বছর ধরে একটানা গ্যাস প্রাপ্তির যে প্রতিশ্র“তি পেয়েছে তার বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচী পালন, এমনকি বিবৃতি দেওয়াও, এই সংগঠনটির দ্বারা সম্ভব হয় নি। বামফ্রন্ট ছিল এই সংগঠনটির একটি বড় শক্তি। বামফ্রন্ট অকেজো হওয়ার কারণে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির অবস্থা বেহাল হয়েছে।
বামফ্রন্ট নিজেদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারণের জন্য গণফোরাম ইত্যাদিকে নিয়ে এগারো দল নামক জোট গঠন করেছিল। এই দুই জোটের প্রধান দলগুলিই এখন নিজেদের জোটের বাইরেই নিজেদের মূল তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এগারো দল ভুক্ত গণফোরাম বিকল্প ধারার সাথে যুক্ত হয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। বামফ্রন্ট ভুক্ত ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কৃপাপ্রার্থী হিসেবে এখন তাদের জো হুজুরগিরি এমনভাবে করছে যাতে বামফ্রন্টগতভাবে তাদের কোন কার্যকারিতা নেই। সিপিবিও ঐ একই কারণে একই পথের পথিক। কিন্তু কর্মীদের, বিশেষতঃ ছাত্র কর্মীদের, বিরোধিতার কারণে তারা ওয়ার্কার্স পার্টির মত আওয়ামী লীগের জো হুজুরগিরি না করলেও কৌশলের সাথে আওয়ামী লীগের পক্ষেই কাজ করছে। কিছুদিন আগে তারা আওয়ামী লীগ, জাসদ এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সাথে একত্রে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছিল। কমিটিটি এখন সক্রিয় না থাকলেও বিলুপ্ত হয় নি এবং ভবিষ্যতে এর সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট।
বামফ্রন্ট দীর্ঘদিন বামপন্থীদের একটা জোট হিসেবে থাকলেও তাদের কোন প্রকৃত কর্মসূচী ও রাজনৈতিক লাইন থাকে নি। উপরন্তু এর প্রধান দলগুলি সংসদীয় দল হিসেবে এক ধরনের সুবিধাবাদী লাইনই অনুসরণ করে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে এবং বামপন্থী, গণতন্ত্রী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, সংগঠন ও দলের সামনে যে কর্তব্য দেখা দিয়েছে সে কর্তব্যের আহ্বানে সাড়া দেওয়া বামফ্রন্টের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিস্থিতির ৎধফরপধষরংধঃরড়হ এর কারণেই এই সংকট বামফ্রন্টের সামনে দেখা দিয়েছে এবং বামফ্রন্ট হিসেবে তাদের পক্ষে এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব হচ্ছে না। এদিক দিয়ে এগারো দলের অবস্থা আরও শোচনীয়।
এটা যেমন সত্য, তেমনি অন্য সত্য হচ্ছে, জনগণের মধ্যে আজ প্রতিরোধের এবং পরিবর্তনের এক বড় তাগিদ ক্রমশঃ শক্তিশালী হচ্ছে এবং এই তাগিদকে ধারণ করা বামপন্থী শক্তি ছাড়া অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়। বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এবং এগারো দল কার্যতঃ বিলুপ্ত হয়ে যেভাবে একটা শূণ্যতা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে সেটা পূরণের শর্তও পরিস্থিতির মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থাৎ বাম প্রগতিশীল শক্তি সমূহের এক নতুন ফ্রন্টের গঠন এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।
কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই রাজনৈতিক শূণ্যতা পূরণ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন পরিস্থিতির মধ্যে বিদ্যমান শর্তকে কাজে লাগিয়ে এ ক্ষেত্রে করণীয় কাজগুলি করা। এ কাজগুলি ঠিক কি এটা নির্ধারনের আগে আন্দোলনের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে সব প্রবণতা (ঃৎবহফ) দেখা যাচ্ছে তার দিকে তাকানো দরকার।
ধর্মীয় রাষ্ট্র পাকিস্তানকে উচ্ছেদ করার পর বাংলাদেশে আবার ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার শুরুর কারণ নতুন শাসক শ্রেণী কর্তৃক কোন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শাসন ব্যবস্থা কায়েমে ব্যর্থতা এবং এই ব্যর্থতার কারণে শোষণ নির্যাতন বৃদ্ধি। এর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে দাঁড়িয়ে শুধু নির্যাতনের আশ্রয় নেওয়া নয়, সেই সাথে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার সহ সব রকম পশ্চাৎপদ চিন্তাভাবনা ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে সামনে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে।
এই ভাবে রাষ্ট্র, সরকার ও শাসক শ্রেণীর প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল কর্তৃক ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের মাধ্যমেই এদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদী চিন্তা ভাবনা জনগণের একটা অংশের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে এবং এই চিন্তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিক্রিয়াশীল কিছু সামাজিক শক্তি সরাসরি ধর্মের ধ্বজাধারী হিসেবে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে। জনগণের জীবনে হতাশা বৃদ্ধি পেতে থাকা, ও বর্তমান পর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করায় এবং এই পরিস্থিতিতে কোন শক্তিশালী প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপস্থিতিতে তাঁদের মধ্যে ইহজাগতিক চিন্তার পরিবর্তে পারলৌকিক চিন্তা অর্থাৎ “পরকালে” কিছু পাওয়ার চিন্তার বিস্তার ঘটছে, ধর্ম চর্চা বাড়ছে। এই ধর্মচর্চাকারীরা সাধারণভাবে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী নয়, কিন্তু এই ভিত্তিভূমির ওপর দাঁড়িয়ে কিছু সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তি সক্রিয় হয়েছে।
সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ বাংলাদেশে এখন কিছুটা প্রভাব অর্জন করেছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন অবশ্যই দরকার। কিন্তু সমাজের মৌলিক সমস্যা নিয়ে আন্দোলন না করে বিচ্ছিন্নভাবে সাম্প্রদায়িকতা মৌলবাদ বিরোধিতাকেই সর্বোচ্চ প্রগতিশীল কর্তব্য হিসেবে প্রচার করতে থাকার অর্থ সমস্যার কারণ চিহ্নিত না করে, কারণ দূর করার চেষ্টা না করে সমস্যা সমাধানের জন্য ফাঁকা আওয়াজ তোলা। আওয়ামী লীগ থেকে নিয়ে সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি ইত্যাদি দল এই ফাঁকা আওয়াজ তুলেই এদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ বিরোধিতার নামে এক ধরনের প্রচার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তৎপরতার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ঘরাণার কিছু বুদ্ধিজীবী এবং সিভিল সোসাইটিওয়ালা ভদ্রলোকদের আধা-রাজনৈতিক তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এদের এই তৎপরতা যে কতখানি ভূয়া চরিত্রের এটা এদের সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ বিরোধী তথাকথিত আন্দোলনের ফলাফলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ খর্ব না হয়ে বাস্তবতঃ শক্তিশালী হচ্ছে।
শুধু শাসক শ্রেণীই নয়, তাদের পৃষ্ঠপোষক ও রক্ষাকর্তা সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষতঃ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, এদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ টিকিয়ে রাখা ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করে যে সাড়ম্বর অনুষ্ঠান করেছেন এটা এ ব্যাপারে চোখ খুলে দেওয়ার মত একটি বিষয়। গণতন্ত্র ও আধুনিকতার সব থেকে বড় স্বঘোষিত ধ্বজাধারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি কারণে বাংলাদেশে চরম পশ্চৎপদ শিক্ষা ব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় নিযুক্ত হয়েছে এটা ঠিক মতো বুঝতে সক্ষম হলে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলন কিভাবে পরিচালনা করা দরকার এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
কাজেই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ সামাজিক ও রাজনীতি ক্ষেত্রে যে ধরনের উপদ্রব হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে তার মোকাবেলা করে এ দুইয়ের উচ্ছেদের জন্য আমাদেরকে কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্তসহ সকল প্রকার শ্রমজীবী জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে আন্দোলন গঠন ও পরিচালনা করতে হবে। কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যসহ সমগ্র অর্থনীতিক্ষেত্রে জনস্বার্থ বিরোধী যে সব সম্পর্ক বিদ্যমান আছে সেগুলি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করতে হবে।
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের নামেও এখানে অনেক প্রতারণা জনগণের সাথে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে শাসক শ্রেণীর সমগ্র অংশই সাম্রাজ্যবাদের সাথে গাঁটছড়ায় বাঁধা। এরা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস। এদিক দিয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামাতে ইসলামী ইত্যাদির মধ্যে পার্থক্য নেই। এই দলগুলির প্রত্যেকটিই এখানে ক্ষমতায় থেকেছে এবং ক্ষমতায় থাকার সময় এরা সাম্রাজ্যবাদের অনুগত সেবাদাস হিসেবেই কাজ করেছে। বিরোধী দলে থাকার সময়েও এদের এই ভূমিকা পরিবর্তন হয় না। শ্রেণীগতভাবে সেটা হওয়ার কোন উপায় নেই। এ কারণে দেখা যায় আফগানিস্তান, ইরাক, প্যালেস্টাইন ইত্যাদি দেশে মার্কিন-ইসরাইলী আগ্রাসন ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে এদের কোন শক্ত অবস্থান তো নেইই, এমনকি কোন কঠোর বিবৃতিও এরা দেয় না। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এদের মধ্যে আবাধে ঘোরাফেরা করে। বর্তমান সরকার বিশ্ব ব্যাংকের মত একটি সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাকে এদেশে সকল তৎপরতার ক্ষেত্রে দায়মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে যে বিল জাতীয় সংসদে উপস্থিত করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ তার কিছুমাত্র বিরোধিতা করে নি। বিশ্ব ব্যাংকের চাপে আদমজী জুট মিল যখন বিএনপি-জামাত জোট সরকার বন্ধ করেছিল তখনও তারা এর বিরোধিতা করে নি। এই বিরোধিতা তারা করেনি বর্তমান সরকার যখন মার্কিন সৈন্যদেরকে যুদ্ধাপরাধ থেকে দায় মুক্ত করার চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষর করেছিল।
বামফ্রন্ট ভুক্ত একাধিক দল, প্রধানতঃ সিপিবি ও ওয়ার্কার্স পার্টি, এ হেন আওয়ামী লীগের সাথে “স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি” হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে “গণতান্ত্রিক” আন্দোলনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ওয়ার্কার্স পার্টি একেবারে খোলাখুলি আওয়ামী লীগ শিবিরে ঢুকে পড়লেও, কর্মীদের একটা বড় অংশের বিরোধিতার কারণে সিপিবি এই মুহূর্তে সরাসরি ও আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের শিবিরভুক্ত হতে পারছে না। তবে অদূর ভবিষ্যতে, নির্বাচন আসন্ন হলে, সিপিবি নেতৃত্বকে যে কর্মীরাও আর এ ব্যাপারে ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন, এমন মনে হয় না। কাজেই আওয়ামী লীগের সাথে ওয়ার্কার্স পার্টির মত একেবারে একাত্ম না হয়ে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা এখন তাদের জন্য একটি কৌশলগত ব্যাপার মাত্র।
আওয়ামী লীগের সাথে এই বাম বুর্জোয়া দলগুলির সম্পর্কের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে যে, মুখে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কিছু কথাবার্তা বললেও, এবং কখনো সখনো সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কর্মসূচী নিলেও, এরা কোন প্রকৃত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তি নয়।
বামফ্রন্টভুক্ত দলগুলির মধ্যে সিপিবি-র নেতৃবৃন্দ আমাদের আক্রমণ করতে গিয়ে প্রায়ই বলে থাকেন যে, আমরা কোন আন্দোলন করি না, আন্দোলন তাঁরাই করেন এবং আমরা শুধু তাঁদের ও তাঁদের মত অন্যদের সমালোচনা করি। এটা এক মিথ্যা ও কুৎসা ছাড়া আর কিছু নয়। বস্তুতঃপক্ষে, তাঁদের একথা বলার কারণ আন্দোলন বলতে তাঁরা শুধু বোঝেন আওয়ামী লীগের মত “স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির” তথাকথিত আদর্শিক ছত্রছায়ায় থেকে, তাদের সাথে গাঁটছড়া বাঁধা অবস্থায় কিছু সভা সমাবেশ মিছিল হরতাল করা। এই সম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে থেকে “আন্দোলন” করা ছাড়া যাদের অন্য কোন চিন্তা নেই, কর্ম নেই, তারা নানা প্রকার প্রকৃত সমস্যা নিয়ে আমাদের একটানা আন্দোলনকে যে আন্দোলন হিসেবে গণ্য করতে পারে না, এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এই কুৎসার জবাব আমরা নিয়মিত ও লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমেই দিয়ে থাকি।
শাসক শ্রেণীর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিসহ তাদের সাথে শ্রেণী বন্ধনে আবদ্ধ বাম রাজনৈতিক দলগুলি সংসদীয় নির্বাচনকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের একমাত্র পথ হিসেবে গণ্য করে। বাংলাদেশে এই পথ ইতিমধ্যেই অবাস্তব এবং অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। শুধু তাই নয়। এই পথ ধরে রাজনীতি করার অর্থই হলো কালো টাকার মালিক লুন্ঠনজীবী, দুর্নীতিবাজ, প্রতারক ও সন্ত্রাসী শাসক শ্রেণীর কাছে জনগণকে জিম্মি রাখা।এ কারণে এই পথ বাদ দিয়ে আমরা জনগণের নিজস্ব বল প্রয়োগের শক্তি ব্যবহার করে মৌলিক সামাজিক পরিবর্তন, শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য দাঁড়াই ও কাজ করি। এই বল প্রয়োগ বলতে আমরা দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র যুদ্ধ, গেরিলা যুদ্ধ ইত্যাদি বোঝাই না। আমরা এর দ্বারা বোঝাই জনগণের অভ্যুত্থান, যে অভ্যুত্থানের চেহারা আমরা দেখেছি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে, ১৯৬৯ সালের ব্যাপক গণআন্দোলনে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের অব্যবহিত পূর্বের গণজাগরণে এবং ১৯৯০ সালের নাগরিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে। এই সব অভ্যুত্থানের প্রত্যেকটি খুব উল্লেখযোগ্য হলেও, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এগুলির মাধ্যমে শাসক শ্রেণীর প্রতিনিধিদের হাতে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। তারাই নেতৃত্বে বহাল থেকেছে।
বর্তমান ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে আমরা যে গণ-অভ্যুত্থানের বাস্তব সম্ভাবনা দেখি তার নেতৃত্ব যাতে আর শাসক শ্রেণীর কোন অংশের হাতে না গিয়ে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের হাতেই আসে, সেই উদ্দেশ্যেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী, ১৮ দফা, প্রণয়ন করেছি ও তার বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করছি। এই পথে রাজনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, সংসদীয় নির্বাচনের পথ বর্জন করে জনগণকে গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত ও পরিচালনা করা। জনগণের শক্তিকে জাগ্রত করা। জনগণই প্রধান শক্তি, কাজেই এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগিয়ে আসা ও সংগঠিত হওয়ার জন্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণের কাছে আমরা আহ্বান জানাই।
দেশের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল ব্যক্তি ও শক্তি সমাজের আমূল পরিবর্তনের জন্য বামপন্থীদের ঐক্য চান। এই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা তাঁদের এক বড় আকাংখা। এক্ষেত্রে একটি সাধারণ ভুল ধারনা বেশ ব্যাপকভাবে জনগণের ও রাজনৈতিক কর্মীদের একটা বড় অংশের মধ্যে দেখা যায়। এই ভুল হলো, ঐক্যের লক্ষ্য উদ্দেশ্য, যাদেরকে নিয়ে এই ঐক্য গঠিত হওয়া দরকার তাদের চরিত্র ইত্যাদি বিষয়ে উদাসীন থেকে শুধু বামপন্থী নামে পরিচিত বিদ্যমান কতকগুলি দলের ঐক্যকেই আসল ঐক্য মনে করা। কি উদ্দেশ্যে ঐক্য, কাদের মধ্যে ঐক্য, কোন কর্মসূচীর ভিত্তিতে ঐক্য, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বিবেচনার মধ্যে ঠিকমত না রাখা। এই “ঐক্যবাদ” এতদিন গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও বিপ্লবী আন্দোলনের অনেক ক্ষতি করেছে।
এই ভুলের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, এবং এই চিন্তা যাতে কর্মক্ষেত্রে প্রশ্রয় না পায়, তার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য ও কর্মসূচীর ভিত্তিতে সাম্রাজ্যবাদ ও শাসক শ্রেণীর সাথে যোগসম্পর্কহীন পরিচিত দল ও লোকদের সমন্বয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ঐক্য গঠন করা। এই ঐক্যের লক্ষ্য শুধু কতকগুলি বাম গণতান্ত্রিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করা নয়। এর মূল লক্ষ্য হতে হবে, উপরোক্ত ধরনের একটি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বাম ফ্রন্টের নেতৃত্বে ব্যাপক প্রগতিশীল ও বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মী, বিশেষতঃ নবাগত কর্মী, ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা।
এক দশকেরও বেশী সময়ব্যাপী বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও সেই সাথে এগারো দলীয় জোট বামপন্থীদের প্রধান শক্তি হিসেবে জনগণের মধ্যে পরিচিত হয়ে এসেছে। নির্বাচনী রাজনীতির আকার্যকারিতা এবং বাম ভাবমূর্তি বজায় রেখে সুবিধাবাদী স্বার্থ রক্ষা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব হয়ে পড়ায় এই দুই জোট এখন প্রায় অকার্যকর হয়েছে ও দ্রুত ভেঙে পড়ছে।
উপরোক্ত বাম জোট দুটির এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের তাগিদ এক বাস্তব ব্যাপার। যে কারণে এই তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে সেই একই কারণে সমাজে সৃষ্টি হয়েছে একটি নতুন বামফ্রন্ট গঠিত হওয়ার রাজনৈতিক শর্ত, এই তাগিদকে ধারণ করা ও তাকে যথার্থ পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সমাজ পরিবর্তনের এই তাগিদকে ধারণ করে, সাম্রাজ্যবাদ ও শাসক শ্রেণীর সাথে সম্পর্কবিহীন সকল শক্তির সমন্বয়ে একটি ব্যাপক ভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বাম ফ্রন্ট গঠনের দিকে আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে। আমাদের নানা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজের সাথে উপরোক্ত বামপন্থীদের ঐক্য গঠনও আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্তব্য। এই কর্তব্য কাজ যাতে আমরা সঠিকভাবে করতে সক্ষম হই তার জন্য সকল গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী শক্তিকে এগিয়ে আসার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
২০.১০.২০০৪

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: