সাম্রাজ্যবাদের তত্ত্বাবধানে, বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে নির্বাচনে জনগণের মুক্তি নাই জনগণের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে সর্বত্র ১৮-দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সংগঠন গড়ে তুলুন

প্রিয় দেশবাসী,
ডিসেম্বর মাসে দেশে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। কিন্তু সে সময় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নি। সে সময় একদিকে বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনে জয়লাভের চক্রান্ত এবং অন্য দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের ক্ষমতায় যাবার জন্য আন্দোলনের সুযোগে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, সৌদি আরব প্রভৃতি সাম্রাজ্যবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১১ই জানুয়ারি ২০০৭ তাবেদার ফখরুদ্দীন সরকারকে ক্ষমতায় বসায় এবং ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল করে।
ফখরুদ্দীন সরকার দেশে জরুরী আইন জারি করে এক অঘোষিত সেনা শাসন কায়েম করে। এই সরকার একদিকে জনগণের জীবন বিপর্যস্ত ও কণ্ঠরোধ করে রাখে এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দুর্নীতিবিরোধিতার পতাকা উড়িয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করে। সে অভিযান এখন পরিণত হয়েছে দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসন কর্মসূচীতে। আগামী নির্বাচন তাই সাম্রাজ্যবাদের দালাল লুটেরা সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসনের নির্বাচন। জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন পরিচালনার ম্যানেজার ঠিক করার নির্বাচন।
সংগ্রামী দেশবাসী,
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পার হয়ে গেলেও এদেশের শ্রমিক কৃষক, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, ধর্মীয় ভাষাগত সংখ্যালঘু কোটি কোটি জনগণের জীবনে কোন মৌলিক পরিবর্তন হয় নি। বাঙালী কি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নামে, সংসদীয় গণতন্ত্র বা বাকশালের নামে, সামরিক শাসন, রাষ্ট্রপতি শাসন আর বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে, সৎ লোকের শাসন আর আল্লাহর আইনের নামে, যোগ্য প্রার্থী আন্দোলনের নামে, সংস্কারের নামে একই লুটেরা সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজ শাসক শ্রেণীর বিভিন্ন অংশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, জাসদ, ইসলামী ঐক্যজোট প্রভৃতি নামে জনগণের ওপর স্বৈরশাসন কায়েম রেখেছে। ২০০৭-এর ১১ই জানুয়ারি গঠিত সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারও একই শাসক শ্রেণীর সেবাদাস। এরা সকলেই দেশের রাজনীতি অর্থনীতিতে সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, সাম্রাজ্যবাদের তাবেদারী করেছে।
সংগ্রামী দেশবাসী,
ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হলেও তার মাধ্যমে এমন এক সরকার গঠিত হবে যা অস্থিতিশীল ও ভঙ্গুর হতে বাধ্য। নির্বাচনে এক বা অন্য দল জয়লাভ করে সরকার গঠন করলে সমাজে ও জনগণের অবস্থার মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবে না। এই অবস্থা যে কারাগারে বন্দী থাকার অবস্থা এতে সন্দেহ নেই। এ কারাগারে হলো, শাসক শ্রেণীর তৈরী এমন এক কারাগার, যা না ভাঙলে জনগণের মুক্তি নেই।
এই কারাগার ভাঙতে হবে। সর্বস্তরের জনগণ, দেশের শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী জনগণ যে হাজারো সমস্যায় জর্জরিত, তার কোনটিরই সমাধান এই কারাগার টিকিয়ে রেখে সম্ভব নয়।
২০০৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে, দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে, ঢাকার শনি আখড়ায়, ঢাকা ও আশেপাশের গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশের শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি জনগণ অধিকার আদায়ে বিদ্রোহে ফেটে পড়েছিলেন। বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম গড়ে তুলে জনগণের হাতে ক্ষমতা নিয়ে আসতে অভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিলেন। আমরা মনে করি জনগণের এই সব সব খন্ড খন্ড অভ্যুত্থানকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশজোড়া এক বিশাল গণঅভ্যুত্থান গড়ে তুলতে হবে। আমরা মনে করি শাসক শ্রেণীর শক্তিকে, তাদের সহযোগী, পৃষ্ঠপোষক ও রক্ষক সাম্রাজ্যবাদকে উচ্ছেদ করার জন্য দরকার দেশের জনগণের এক বিশাল অভ্যুত্থান। এই অভ্যুত্থান হলো, জনগণের মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত রূপ। এই পথেই জনগণের হাতে ক্ষমতা আসবে।
সংগ্রামী দেশবাসী,
দেশের শাসন ব্যবস্থা আমূলভাবে পরিবর্তন এবং দেশে একটি শোষণহীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ১৮ দফা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। সংগঠন ছাড়া জনগণের হাতে কোন শক্তি আসতে পারে না। সংগঠন ছাড়া জনগণ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না, সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে বের করে আনা সম্ভব হয় না, শাসক শ্রেণীকে শেকড় শুদ্ধ উপড়ে ফেলে যায় না, জনগণের দ্বারা ক্ষমতা দখল সম্ভব হয় না। শহর ও গ্রামের শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি জনগণের কাছে আমাদের আহ্বান, আসুন নিজেদের হাতে ক্ষমতা নিয়ে আসার জন্য দেশজোড়া আন্দোলন-অভ্যুত্থান সংগঠিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করি।
আসুন ১৮ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সর্বত্র সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে তুলি। আসুন আওয়াজ তুলি: ১. অবিলম্বে জরুরী অবস্থা তুলে নাও। ২. দেশের রাজনীতি-অর্থনীতি সহ সকল ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ বন্ধ কর। ৩. রাষ্ট্রীয় হেফাজতে বিনা বিচারে হত্যা বন্ধ কর। ৪. পার্বত্য জেলা সমূহ থেকে সেনা শাসন প্রত্যাহার কর। ৫. দেশের সমুদ্র সীমানার তেল-গ্যাস ক্ষেত্র সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানীর কাছে ইজারা দেয়ার চক্রান্ত বন্ধ কর।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
২৪/১১/২০০৮

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: