আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আহবান নারী মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে নিন পুঁজি ও সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন

সংগ্রামী বন্ধুগণ,
৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯১১ সাল থেকে শ্রমিক শ্রেণী, বিশেষ করে সমাজতন্ত্রী শ্রমিক নারীদের নেতৃত্বে, আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দেশে দেশে শ্রমিক শ্রেণী এই দিবসে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খল ভাঙ্গার শপথ নেবে। শপথ নেবে মজুরী দাসত্ব থেকে মুক্তির, পুঁজি ও সম্পত্তির উপর ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদের। এই দিবস পালনের মধ্য দিয়ে সারা দুনিয়ার শ্রমিক নারীরা ঐক্যবদ্ধ হবেন ও শোষণমূলক ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করবেন।
নারী পুরুষ সমতার প্রশ্ন একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। এটিকে রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসাবে শক্তিশালীভাবে উত্থাপন করেছেন সমাজতন্ত্রীরাই, আরো নির্দিষ্ট করে বললে শ্রমিক শ্রেণীর পার্টি। ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ তাই আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অবিচ্ছিন্ন অংশ।
বন্ধুগণ,
‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হলো শ্রমিক নারীর সংগ্রামের জঙ্গী দিবস। এই দিবসের শ্রেণী চেতনা, আন্তর্জাতিকতাবোধ ও জঙ্গীত্ব এই তিন-ই বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐতিহ্য। শ্রমিক শ্রেণীর এই আন্তর্জাতিক দিনটিকে তার জঙ্গী শ্রেণী চেতনা, আন্তর্জাতিকতা এবং সংগ্রামের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পুঁজিপতি শ্রেণী ও সাম্রাজ্যবাদীরা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। পুঁজিপতিশ্রেণীর সেবাদাস সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও এনজিও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সংগ্রামী শ্রেণী চেতনা ধ্বংসে মাঠে নেমেছে। পুঁজিবাদী সমাজের শোষণ লুণ্ঠন নির্যাতন ও বৈষম্যের দিকটিকে আড়াল করতে এরা তৎপর। দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে অতীতে নারী মুক্তি সংগ্রামে যে অগ্রগতি হয়েছিল তাকে এরা এড়িয়ে যায়। এরা নারী মুক্তির প্রধান বাধা হিসেবে ‘পুরুষতন্ত্র’কে সামনে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে সক্রিয় রয়েছে। বাংলাদেশে বামপন্থী নামধারী কয়েকটি দল এই চক্রান্তকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে একই কাজ করছে।
বন্ধুগণ,
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের দাবি গার্মেন্টস শিল্প সহ সকল কারখানায় শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার, নিয়োপত্র, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, মনুষ্যোচিত মজুরী, মাতৃত্বকালীন সবেতন ৬ মাসের ছুটি দিতে হবে। রাত্রিকালীন কাজ নিষিদ্ধ করতে হবে। বিবাহ ও পারিবারিক অধিকারের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমতা কায়েম করতে হবে। সর্বত্র নারীর উপর সংহিসতা বন্ধ করতে হবে।
বন্ধুগণ,
বাংলাদেশের পেটিবুর্জোয়া সমাজতন্ত্রীরা এখন জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবিটিকে নারী প্রশ্নে তাদের প্রধান রাজনৈতিক দাবি হিসেবে উত্থাপন করেন। শ্রেণী চেতনা, আন্তর্জাতিকতাবোধ ও জঙ্গীত্ব ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসের’ তিন ঐতিহ্যকেই তারা সম্পূর্ণরূপে ও সচেতনভাবে এড়িয়ে চলেন। এর বিপরীতে বাংলাদেশের প্রকৃত সমাজতন্ত্রীদের আজ গড়ে তুলতে হবে গ্রাম-শহরের শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী নারীদের এমন এক আন্দোলন যা লড়াই করবে বুর্জোয়া সম্পত্তি সম্পর্ক ও পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের উচ্ছেদের জন্য, যা লড়াই করবে সমাজতন্ত্রের জন্য। সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের সীমিত কোন পার্লামেন্টবাদী দাবি নিয়ে এই লড়াই বিন্দুমাত্র অগ্রসর হবে না।
সংগ্রামী বন্ধুগণ,
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আসুন, বিশ্বব্যাপী চলমান পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের সাথে ঐক্যবদ্ধ হই। সারা দুনিয়ার মেহনতি মানুষের ঐক্য ও সংগ্রামকে শক্তিশালী করি। নারী মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে নিতে বাংলাদেশে বুর্জোয়া শাসকশ্রেণীর শাসন উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করি। আজকের দিনে বাংলাদেশের বিপ্লবী নারী সমাজের রাজনৈতিক শ্লোগান:

*  পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংস হোক!
*    শ্রমিক নারী-পুরুষের আন্তর্জাতিক ঐক্য গড়ে তোল!

*    বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐতিহ্য ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ জিন্দাবাদ!

                                                                                                        জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
১৭/২ তোপখানা রোড, ৩য় তলা (শ্রমজীবী স্বাস্থ্য সেবা), ঢাকা। মোবা: ০১৭১৩ ০৬৩৭৭৬। ৭ মার্চ ২০১২

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: