জনগণের হাতে ক্ষমতা চাই, জনগণের সংবিধান চাই

৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে
ভারতের তাবেদার-আমেরিকার পদলেহী একদলীয়  আওয়ামী-বাকশালী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ান!   

লুটেরা সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজ শাসক-শোষক শ্রেণীকে উচ্ছেদ করে শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের গণতান্ত্রিক সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন

জনগণের ব্যাপক অংশের মতামত উপেক্ষা করে হাসিনা সরকার আগামী ৫ জানুয়ারি ২০১৪, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পরপর এই নির্বাচন অনুষ্ঠান হবার কথা। এই নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে বলা হয়ে থাকে ক্ষমতা হস্তান্তরের এক ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’। এভাবেই শাসক-শোষক শ্রেণী বিদ্যমান শাসন কাঠামো অটুট রাখে। ক্ষমতাসীনরা সংবিধানের ধুয়া তুলে এসব করে থাকে। বিদ্যমান জাতীয় সংসদ, নির্বাচনকালীন সরকার, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, মিডিয়া, এনজিওসমূহ প্রভৃতি শক্তি বিদ্যমান শ্রেণী শাসন কাঠামো অক্ষত-অটুঁট রাখতে এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই শ্রেণী শাসন কাঠামো আজ পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েছে। ফলে দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সৌদিআরব প্রভৃতি রাষ্ট্র এখন নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করছে।

দেশের শ্রমিক-কৃষকসহ কোটি কোটি শ্রমজীবী জনগণকে, জাতিগত-ভাষাগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণকে বর্তমান পুঁজিবাদী শোষণ ও শাসন কাঠামোর যাঁতাকলে আটকে রাখার লক্ষ্যে শোষক-শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এমন তৎপরতা শুরু করে যেন সাধারণ জনগণের কাছে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানকে এক ‘মহান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে মনে হয়।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে দেশের শোষক-শাসকশ্রেণীর প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের জোট পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত। নিজেদের ভেতর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ভাগবাটোয়ারার জন্য ১৯৯৬ সালে এরা সকলে মিলে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান সংশোধন করে চালু করেছিল। ফলে সেসময় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি পরাজিত হয়েছিল বিরোধী আওয়ামী লীগের নিকট এবং অনুরূপভাবে ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছিল বিএনপির নিকট। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়েছিল সেনানিয়ন্ত্রিত ফখরুদ্দীন আহমেদের সরকারের অধীনে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল সংখ্যক আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে শেখ হাসিনা ২০১১ সালে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন সময়ে গঠিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান বাতিল করে তাঁর (শেখ হাসিনার) সরকারের অধীনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইন করা হয়। এই নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রশাসনে নিজ দলীয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আয়োজন করে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত গদি দখলে রাখার এক নীলনক্সা হিসেবে ইতোমধ্যে জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এই নির্বাচন প্রত্যাখান করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন করছে। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ শত আসনের ১৫৪টি আসনের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে ভোট ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছে এটা কোন নির্বাচন নয় বরং নির্বাচনের নামে এক প্রহসন।

লুটেরা সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজ দেশবিরোধী শোষক-শাসকশ্রেণীর ক্ষমতাসীন অংশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট, এরশাদের জাতীয় পার্টি প্রভৃতি ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশব্যাপী হত্যা-গুম-রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী ভারতের মদদে বাংলাদেশকে ভারতের অধীন করতে ও নিজেদের দুর্নীতি, দেশবিরোধী তৎপরতার বিচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশে একদলীয় আওয়ামী-বাকশালী শাসন কায়েমের ষড়যন্ত্র করছে। জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই ষড়যন্ত্র আজ জনগণকেই রুখে দাঁড়াতে হবে।

শোষক-শাসকশ্রেণীর ক্ষমতা বহির্ভূত অংশ বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি দিয়ে চলেছে। সরকারের দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় হত্যা-সন্ত্রাস মোকাবেলার নামে ১৮ দলীয় জোট জনগণের উপর সহিংস হামলা চালাচ্ছে। পেট্রোল বোমা মেরে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হামলার শিকার হচ্ছে।

বন্ধুগণ
বাংলাদেশ আজ এক দূর্যোগপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। পরিস্থিতি কতোটা ভয়াবহ তা যাঁরা রাজনীতির খোঁজখবর রাখেন তাঁরা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় কোন দল গদীনসীন হবে তা এখন অনেকাংশে নির্ভর করছে ভারত, আমেরিকাসহ বৈদেশিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের উপর। এজন্য দফায় দফায় মিটিং হচ্ছে গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক পাড়ায়, ভারতের দিল্লীতে আর আমেরিকার ওয়াশিংটনে। আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মজিনা আর ভারতের রাষ্ট্রদূত পংকজ শরণের রাজনৈতিক তৎপরতা সকল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। অবস্থা এমনই যে, রাষ্ট্রদূত মজিনা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে গিয়ে ভারতের সাউথ ব্লকের আমলাদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে আগামীতে কারা সরকার গঠন করবে এই নিয়ে। পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে যে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। একথাও প্রকাশ পেয়েছে যে, ভারত বাংলাদেশে আগামীতেও এমন সরকার গদিনসীন দেখতে চায় যে সরকার হবে ভারতের অনুগত ও পদলেহী। যেন বাংলাদেশ ভারতের কোন অঙ্গরাজ্য !  সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকাও আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে এমন সরকারকে গদিনসীন দেখতে চায় যে হবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে আমেরিকার তল্পিবাহক। নির্বাচন নিয়ে ভারত-আমেরিকার মতবিরোধের খবরও বাংলাদেশ ও ভারতের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আওয়ামী  লীগ ভারতের আশ্রয় নিয়েছে এবং বিএনপি-জামায়াত আমেরিকার দিকে তাকিয়ে আছে।

লুটেরা সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজ দেশবিরোধী শোষক-শাসকশ্রেণীর এই ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাবহির্ভূতদের হাত থেকে দেশ রক্ষায় আজ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার সংগ্রাম বেগবান করতে আগামী ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ভারতের তাবেদার, আমেরিকার পদলেহী, একদলীয় আওয়ামী-বাকশালী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে।

পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার শাসন-শোষণের কাঠামো ভেঙ্গে দিতে সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে সকল সংগ্রাম ত্বরান্বিত করতে হবে। শ্রমিক-কৃষকসহ দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী জনগণের হাতে ক্ষমতা আনতে, জাতিগত-ভাষাগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের মুক্তিলাভে দেশব্যাপী এক গণরাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটানোর প্রস্তুতি নিতে হবে।

বন্ধুগণ,
জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়ার, জনগণের সার্বভৌমত্ব খর্ব করার কোনো আইন ও সংবিধান জনগণ মানতে বাধ্য নন। যে সংবিধান  কারখানায় কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, যে সংবিধান জনগণের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে, জনগণের সভা-সমাবেশ মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে সে সংবিধান জনগণের নয়। যে সংবিধান ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণকে স্বীকার করে না, রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িক চরিত্র দান করে সে সংবিধান জনগণের নয়।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মনে করে প্রচলিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে কোনো ক্ষমতা আসবে না। জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার পথ হচ্ছে জাতীয় মুক্তির ১৮ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে গণআন্দোলনের পথ, গণসংগ্রামের পথ। এই পথ ধরেই শ্রমিক-কৃষক নিপীড়িত জাতিসমূহ দেশজোড়া গণরাজনৈতিক অভ্যুত্থানের ওপর দাঁড়িয়ে জনগণের সরকার, নতুন সংবিধান ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে। তাহলেই জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

আসুন, জাতীয় মুক্তির ১৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সর্বত্র জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কমিটি গঠন করি। জনগণের হাতে ক্ষমতা আনতে তথা জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় দেশজুড়ে সংগ্রাম গড়ে তুলি। আওয়াজ তুলি :

ভারত-আমেরিকার তাবেদার সরকার চাই না।
জনগণের হাতে ক্ষমতা চাই, জনগণের সরকার-নতুন সংবিধান-রাষ্ট্র চাই।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

কার্যালয়: ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা (৫ম তলা), ঢাকা- ১০০০। ফোন: ০১৭১৩০৬৩৭৭৬।              ২.১.২০১৪, http://www.jmcbd.wordpress.com https://www.facebook.com/pages

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: