দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরামের স্বরূপ প্রসঙ্গে

১. বিদেশী অর্থের জোরে নানা ধরনের ব্যয়বহুল ও দৃষ্টি আকর্ষক আয়োজনের ক্ষেত্রে এনজিওদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য। ‘দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরাম’ নামক তেমনি এক চটকদার আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। ‘অন্য রকম দক্ষিণ এশিয়া গড়া সম্ভব’ স্লোগান নিয়ে ১৮ থেকে ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই আঞ্চলিক ফোরাম। বাংলাদেশে সক্রিয় দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো পাঁচ দিনের এই ব্যয়বহুল আয়োজন সংগঠিত করেছে; সহ-আয়োজক হিসেবে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘সিভিল সোসাইটি’ নামে পরিচিত সনাতনী চিন্তায় গা-ভাসানো মূলধারার বুদ্ধিজীবী ও সংগঠনগুলোকে ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়াতে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছে আয়োজকরা। ক্রিটিকাল বা বিচারবাদী চিন্তাহীনভাবে সকল কিছুতে অংশ নিয়ে উপস্থিতি, জনপ্রিয়তা ও তহবিলের যোগান রক্ষাকারী নানা বামপন্থী সংগঠন, নেতা ও ব্যক্তি এই আয়োজনে অংশ নিয়ে একে বৈধতা দিলে তাতে আশ্চর্য হবার কিছু না থাকলেও, সাধারণভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণসমাজ এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের চিন্তাধারাকে বিভ্রান্ত করার বিপজ্জনক প্রবণতা এতে বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য ‘দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরাম’-এর রাজনৈতিক তাৎপর্যকে যথোপযুক্ত পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
২. ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামের ধারাবাহিকতা ও অংশ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে এই দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরাম। আঞ্চলিক এই ফোরাম এর আগে আয়োজিত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানে। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে পুঁজিপতিদের বার্ষিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিপরীতে, বিশ্বায়ন ও নয়া-উদারবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিবাদে নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রতিবাদ এবং চিন্তাভাবনা বিনিময়ের উদ্যোগ হিসেবে প্রথম ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামটি ২০০১ সালে আয়োজিত হয়েছিল ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রে শহরে। আর সর্বশেষ ফোরামটি হয়েছে এ বছরে সেনেগালের ডাকারে। অ্যাটাক (ATTAC) সহ কয়েকটি ফরাসি এনজিও, সেখানকার একটি সংবাদপত্র, ব্রাজিলের একটি এনজিও ও নিয়োগদাতা বা মালিকদের সংগঠনের উদ্যোগে এবং সে সময় ব্রাজিলে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সহায়তায় প্রথম ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামটি অনুষ্ঠিত হবার পর এটি এখনো কার্যকর রয়েছে। মূলত গত শতকের নব্বুই দশকে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নবিরোধী যে মনোভাব বিশ্বের দেশে দেশে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠে তাকে অবলম্বন করে এবং জনগণের সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নবিরোধী ক্ষোভ-বিক্ষোভ ধারনের আধার হিসেবে গড়ে তোলা হয় ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরাম। যা প্রথম দিকে বিশ্বব্যাপী প্রচুর সাড়া পেয়েছিল; এর পেছনে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো, নোয়াম চমস্কি এবং অরুন্ধতী রায়ের মতো ব্যক্তিরা। কিন্তু বিগত ১০ বছরে এটি মূলতঃ সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওদের একটি বার্ষিক বাগাড়ম্বরে ভরপুর কার্নিভালে পরিণত হয়েছে।

৩. বিশ্বায়নবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে ওঠার প্রতিশ্র“তি দেয়া সত্ত্বেও প্রথম থেকেই সোশ্যাল ফোরাম নিয়ে যেসব বাস্তবভিত্তিক সমালোচনা ছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল এর পেছনে অর্থ যোগানদাতাদের পরিচিতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে। শুরু থেকেই মূল ফোরাম সিআইএ-র সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ফোর্ড ফাউন্ডেশন, রকফেলার ব্রাদার্স ফান্ড, চার্লস স্টুয়ার্ট মট ফাউন্ডেশন, ডব্লুউ. এলটন জোনস ফাউন্ডেশন, নরওয়ে, ইটালি, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জার্মানির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুগোশ্লাভিয়া ও আফগানিস্তানে মার্কিন-ন্যাটো যুদ্ধের সমর্থক জার্মানির গ্রীন পার্টি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হেনরিশ ব্যোল ফাউন্ডেশন, ব্রিটিশ সংস্থা অক্সফাম, নেদারল্যান্ডের অক্সফাম-নোভিবসহ ইউরোপ-আমেরিকা-ব্রিটেনের আরো অনেক সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ পেয়ে এসেছে। অর্থের যোগানদারের স্বার্থে যে তারা কাজ করছে এতে কোন সন্দেহ নেই, নয়তো বহু আগেই তাদের অর্থের যোগান বন্ধ হয়ে যেত।
সাম্রাজ্যবাদী দেশের সংস্থা অ্যাকশন এইড ও অক্সফামের মতো এনজিওগুলোর তহবিলের একটি বড় অংশ আসে নিজ দেশের সরকারের কাছ থেকে। সুতরাং তারা কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান তো নয়ই, বরং তাদের ‘উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো’ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজ দেশের সাম্রাজ্যবাদী নীতিরই অনুগামী। কোনো সন্দেহ নেই যে, দ. এশিয়া সোশ্যাল ফোরামটিও বিভিন্ন বিদেশি এনজিও এবং ঢাকাস্থ দূতাবাসগুলোর আর্থিক সহায়তায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
৪. প্রায় প্রথম থেকেই বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি তহবিলদাতা সংস্থাগুলো ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামগুলোকে এক ধরনের কেনাবেচার হাট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ফান্ডারস নেটওয়ার্ক অন ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশন পর্যবেক্ষক মর্যাদায় নিয়মিতভাবে ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামে যোগ দেয়। তাদের কাজ হচ্ছে নানা তহবিলদাতা সংস্থার পক্ষে অর্থায়ন করা। এরা ছাড়াও হাজির থাকে প্রায় সকল তহবিলদাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা, যারা বিভিন্ন দেশের এনজিও ও তৃণমূল সংগঠনগুলোর চিন্তাভাবনা, আন্দোলন প্রভৃতি সম্পর্কে বোঝার এবং নিজেদের চিন্তাভাবনা দিয়ে সেগুলোকে প্রভাবিত করায় সচেষ্ট থাকে।
৫. ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বলে কিছু নেই। অর্থের উৎস নিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে কোথাও কিছু উল্লেখ নেই। একই ধারা লক্ষণীয় বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরাম আয়োজকদের ওয়েবসাইটে। তাদের অর্থের উৎস, এই পাঁচ দিনের আয়োজনের অর্থের পরিমাণ, কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্পন্সর করছে কিনা, আয়োজক কারা, দেশের ও বাইরের কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি অংশ নেবার জন্য নিবন্ধন করেছেন সে সম্পর্কিত কোনো তথ্যই তাদের ওয়েবসাইটে দেয়া নেই। তাদের আলোচ্যসূচিতে রীতিমাফিক ‘জানার অধিকার’ এবং ‘জবাবদিহিতা’ থাকলেও, নিজেদের তথ্য উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে তারা কর্পোরেট সংস্থাগুলোর মতোই রক্ষণশীল।
৬. পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের বিপরীতে বিকল্প বিশ্বায়ন রূপায়িত করা ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরামের আয়োজকদের ঘোষিত অবস্থান। সে অর্থে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শত্র“ শিবিরে থাকার কথা। কিন্তু ২০০৭ সালে কেনিয়াতে অনুষ্ঠিত সপ্তম ফোরামটির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল কট্টর শ্রমিক ইউনিয়নবিরোধী কেনিয়া এয়ারওয়েজ এবং কুয়েতি বহুজাতিক মোবাইল ফোন কোম্পানি সেলটেল। ফোরামে সকল অংশগ্রহণকারীকে সেলটেল বিনামূল্যে টকটাইমসহ সিম কার্ড বিতরণ করে; কর্পোরেট মেলার মতো পুরো মেলায় সেলটেলের টি শার্ট পড়া প্রতিনিধিদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। ফোরাম প্রাঙ্গণে সাত ডলারের টিকেট কেটে মেলার মতো প্রবেশ করতে হয়েছিল।
ঢাকার দ. এশিয়া ফোরামে কোন কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে সেটি পর্যবেক্ষণের একটি বিষয় হবে।
৭. পাঁচ দিনের এই আয়োজনে শিশু অধিকার, মানবাধিকার থেকে নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক আলোচ্য বিষয় রয়েছে। কিন্তু আলোচনায় নেই শুধু বাংলাদেশেই বিগত তিন দশক ধরে এনজিও ও তাদের সিভিল সোসাইটির কার্যক্রমের তথা ‘দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত, সমতা, স্বাধীনতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার’ অগ্রগতির কোনো মূল্যায়ন। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক কোন ধরনের কার্যক্রমে তাদের কোনো আগ্রহ তাদের নেই।
৮. আয়োজকরা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সিডা, ইউএসএইড, ডিএফআইডি’র মত সাম্রাজ্যবাদী তহবিল যোগানদাতাদের সম্পর্কে নিশ্চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানই যে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে হাতে হাত মিলিয়ে উন্নয়নের নামে এদেশে নানা অপকর্মের সাথে জড়িত তা অস্বীকার করা একমাত্র চরম মতলববাজ বা মূর্খদের পক্ষেই বলা সম্ভব।
তারা নারী অধিকার, যৌনস্বাস্থ্য অধিকার ইত্যাদি আলোচ্যসূচির মধ্যে রাখলেও স্থানীয় কোনো এনজিওকে ইউএসএইড’র অর্থায়নের ক্ষেত্রে সকল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নারী অধিকার লংঘনকারী শর্ত (‘অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান গর্ভপাত কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে না’ এই মুচলেকা দেয়া) জুড়ে দেবার প্রতিবাদ করার প্রয়োজন অনুভব করছে না। বিচার বহির্ভূত রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাদের উদ্বেগ সত্ত্বেও, সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে কীভাবে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে খুনিবাহিনীতে পরিণত করেছে সেই প্রসঙ্গে তারা নিশ্চুপ। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মুক্তির আন্দোলনে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে যে ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ, তার সামান্যতম ইঙ্গিতও তাদের কর্মসূচী প্রদান করে না। এ সকল প্রশ্নে কোনো আলোচনা ছাড়াই ‘মানবিক সমাজসম্পন্ন অন্য রকম দ. এশিয়া’ কীভাবে সম্ভব হতে পারে?
আয়োজকরা নিজেদের রুটিরুজির জন্য বিপজ্জনক কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয়, তারা চায় নিরাপদ বাগাড়ম্বরের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাজগতে মোহজাল বিস্তার করতে। এদের মাধ্যমে এদেশে সকল ধরনের স্বাধীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, উদ্যোগ ও সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি প্রায় বিলুপ্ত হবার মধ্য দিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি কেবলমাত্র সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলোর চশমা দিয়ে দেখার, ব্যাখ্যা করার এবং তাদের শিখিয়ে দেয়া বুলি আওড়ানোর বা তাদের ঢাক পেটাবার বিপজ্জনক প্রবণতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৯. ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরাম বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিকে ‘অগণতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক’ প্রতিষ্ঠান বলে সমালোচনা করে থাকে এবং এ সকল প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিকীকরণের দাবি তুলে। এর মাধ্যমেই তারা ‘সমতা, স্বাধীনতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে। তাদের এই ধ্বনির অর্থ একচেটিয়া পুঁজির গণতান্ত্রিকীকরণের দাবি তোলা। বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণী ও শোষিত জনগণের দিক থেকে এই উদ্ভট প্রস্তাবের গ্রাহ্যতা কি? পুঁজিবাদ থাকলে শোষণ থাকবে, একচেটিয়া পুঁজি থাকবে, তার আন্তর্জাতিক সংস্থাও থাকবে। শোষণ থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন পুঁজির ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদ করে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা, যার মধ্য দিয়ে একচেটিয়া পুঁজির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে, সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হবে তার আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, ডব্লিউটিও প্রভৃতি সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠান সমূহের গণতান্ত্রিকীকরণ নয়, বরং জনগণের ক্ষমতা দখল, সাম্রাজ্যবাদের উচ্ছেদ ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাÑ এই হলো সারা বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণী ও শোষিত জনগণের মুক্তির কর্মসূচি।
পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই কর্মসূচিকে চাপা দেয়ার জন্য, জনগণকে বিভ্রান্ত করে শোষণ ব্যবস্থা রক্ষার জন্য সাম্রাজ্যবাদ যে কৌশল অবলম্বন করে তার একটি হলো নিজেরাই অল্প কয়েকটি সাম্রাজ্যবাদী সংস্থার বিরুদ্ধে খণ্ডিতভাবে সমালোচনা হাজির করা। এটা হলো সাম্রাজ্যবাদের ‘নিয়ন্ত্রিত সমালোচনার’ কৌশল। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের যে কোন সামগ্রিক, ন্যায্য ও বৈজ্ঞানিক সমালোচনাকে নস্যাৎ করবার জন্যই তাদের এই কৌশল। কেননা তেমন সমালোচনা সঠিক ও বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মসূচিকে জোরদার করে ও তার ভিত্তিতে শক্তিশালী রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে উঠতে সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ফোরাম হলো সাম্রাজ্যবাদের উপরোক্ত ধরনের কৌশল বাস্তবায়নেরই এক প্লাটফর্ম।
১০. বাংলাদেশের এনজিওরা পরিপূর্ণভাবে তাদের তহবিলদাতা সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান। এই সাম্রাজ্যবাদী তহবিলদাতাদের ঠিক করে দেয়া নিদান, বিষয় ও বুলি নিয়েই তারা বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে। দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরাম হলো তেমনি এক ঠিকাদারী কাজ যা বাস্তবায়নে এনজিওদের সাথে এবার যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরামের সকল কার্যক্রমকে বিচারবাদী দৃষ্টিতে না দেখলে সেটি সচেতন মানুষদের জন্য যেমন বিভ্রান্তিকর হবে, তেমনি তা সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর উদ্দেশ্যকেই হাসিল করবে। এ ধরনের আয়োজনে অংশ না নিয়ে, এর বিরোধিতা করা ও স্বরূপ উদঘাটন করা আজ একটি জরুরি কর্তব্য।

             জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল কর্তৃক ১৭/২ তোপখানা রোড, ৩য় তলা, ঢাকা ১০০০১ থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত। মোবা.: ০১৭১১ ৯০১৫৬৮। ১৯/১১/২০১১

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: