বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশন. ১১ তম জাতীয় সম্মেলনের আহবান শোষক বড়লোক শ্রেণীকে উচ্ছেদ করে কৃষক শ্রমিক ও গরীব মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন

সংগ্রামী বন্ধুগণ,
আগামী ২৫ ও ২৬-শে মার্চ, ১১ ও ১২-ই চৈত্র, বৃহস্পতি ও শুক্রবার ২ দিনব্যাপী বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের ১১তম জাতীয় সম্মেলন পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার সলিমপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলন এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, মজুরী শোষণ, সুদখোর এনজিওদের শোষণ, বেকারত্ব, প্রশাসনিক দুর্নীতি, বিদ্যুৎ ঘাটতি, সরকারী হাসপাতালে ফি বৃদ্ধি, সাম্রাজ্যবাদী বৈদেশিক হস্তক্ষেপ এবং সরকারি দলের সন্ত্রাস-দুর্নীতি-দুঃশাসন জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। গ্রাম ও শহরের কৃষক শ্রমিকসহ সকল স্তরের গরীব মানুষ আজ এক চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
সংগ্রামী বন্ধুগণ,
একদিকে কৃষকরা উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, কৃষি যন্ত্রপাতিসহ কৃষি উপকরণের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। সরকার কৃষিতে ভর্তুকীর কথা ফলাও করে বললেও তার ফল খোদ কৃষক পাচ্ছে না, বাজার অর্থনীতির কারণে ব্যবসায়ী শ্রেণী লাভবান হচ্ছে। সরকার বাজার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ বড় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়েছে।
কৃষি জমি আজ কৃষকের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কৃষক আজ প্রতিনিয়ত ভূমিহীন ও বেকার শ্রমিকে পরিণত হচ্ছেন। স্থায়ী কোন কাজ না থাকায় গ্রামের গরীব ও বেকার মজুরগণ এখন নানা অস্থায়ী পেশার সাথে জড়িয়ে পড়ছেনÑ রিক্সা ও ভ্যান চালনা, নছিমন-করিমন চালনা, ছোট দোকানদারী, ইট ভাটা, মাটি কাটা, রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করছেন। একদিকে বাজার অর্থনীতির শোষণ অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী এনজিওদের চড়া সুদের ঋণের জালে গরীব মানুষ আটকে পড়ছেন এবং জমি, ভিটাবাড়ী বিক্রয় করে ঋণ থেকে মুক্তির চেষ্টা করছেন।
সংগ্রামী বন্ধুগণ,
কৃষকের জন্য জমি ও ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, শ্রমিকের জন্য নিয়মিত কাজ ও বাঁচার মত মজুরী নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামের গরীবদের এনজিও ঋণের জাল থেকে মুক্তি আজ বাংলাদেশের সমগ্র গ্রামাঞ্চলের দাবী। বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদ এই দাবী পূরণে কোন পদক্ষেপ নেয় নাই। অতীতেও কোন সরকার, কোন জাতীয় সংসদই এই দাবী পূরণ করে নাই। এটা আজ স্পষ্ট যে, এদেশের কৃষক শ্রমিকের সকল সমস্যার মূলে বড়লোক শোষক-শাসক শ্রেণী ও তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা। তাই আজ বিভিন্ন ইস্যুতে যেমন আন্দোলন করতে হবে, তেমনই নিজেদের সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষক-শ্রমিকের স্বাধীন রাজনৈতিক সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। একমাত্র কৃষক-শ্রমিকের সরকারই মেহনতি মানুষকে মুক্তি দিতে পারবে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা জাতীয় মুুক্তি কাউন্সিলের ১৮ দফা কর্মসূচীকে সমর্থন করি।
আসুন, বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হই। ২৫শে মার্চ বিকাল ৪টায় ঈশ্বরদীর চর সাহাপুর গোল চত্ত্বরের জনসভায় যোগ দিন এবং বজ্র কন্ঠে আওয়াজ তুলুন:
১) ঘএঙ-এর শোষণ নির্যাতন বন্ধ কর। সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান নিশ্চিত কর।
২) সার বীজ বিদ্যুৎসহ সকল কৃষি উপকরণ কম দামে সরবরাহ নিশ্চিত কর।
৩) নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম কমাতে পূর্ণ রেশনিং ব্যবস্থা চালু কর।
৪) অনুপস্থিত ভূমি মালিকদের ভূমি জাতীয়করণ কর, খোদ কৃষকের হাতে জমি দাও।
৫) প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কর, জনগণের যানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত কর।
৬) সকল প্রকার প্রশাসনিক দুর্নীতি ও নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ কর।
৭) গ্রামীণ গরীবদের বিনা পয়সায় শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা কর।

বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশন
১১তম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি কর্তৃক ১৭/২ তোপখানা রোড (৩য় তলা) থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৫৫৬-৪৬৮৭০৬; ০১১৯৯-৪৬৮৯৯৭, ০১৭৩৪-৬৪২০৪৬। ১/৩/২০১০

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: