১০ মে দেশব্যাপী বিক্ষোভ অবিলম্বে খাগড়াছড়িতে সভা-সমাবেশ-মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নাও

পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে অঘোষিত সেনাশাসন প্রত্যাহার কর

সংগ্রামী দেশবাসী,
গত ১৯-২০ ফেব্র“য়ারি রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ির সাজেক এলাকায় এবং ২৩ ফেব্র“য়ারি খাগড়াছড়ি সদরে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণের উপর সেনা সদস্যদের গুলীবর্ষণ ও হত্যা এবং পাহাড়ী জনগণের ৪০৭ টি বসতভিটায় বাঙালি সন্ত্রাসীদের অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর এক মাস পর ১৮ মার্চ খাগড়াছড়ি জেলা ডেপুটি কমিশনার জেলা সদরে সভা-সমাবেশ-মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ঘোষণায় বলা হয়েছে যে-সব নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয় তারা খাগড়াছড়িতে সভা-সমাবেশ-মিছিল করতে পারবে না। এর মাধ্যমে সরকার খাগড়াছড়িতে কার্যত এক অঘোষিত জরুরী অবস্থা জারী করেছে।
বন্ধুগণ,
সভা-সমাবেশ-মিছিলের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকার বা কোন ডেপুটি কমিশনার তা কেড়ে নিতে পারে না। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত না হলে জনগণ কোন মতামত প্রকাশ করতে পারবে না এই কু-যুক্তি জনগণ মানে না। জনগণের মত প্রকাশের অধিকারকে যে সরকার বা সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার হরণ করে, সে সরকার অগণতান্ত্রিক সরকার। খাগড়াছড়িতে এই অঘোষিত জরুরী অবস্থার বিরুদ্ধে শাসক শ্রেণীর দল বিএনপি-জামাত-জাতীয় পার্টি নীরব। একইভাবে নীরব কমিউনিস্ট-সমাজতান্ত্রিক-ওয়ার্কার্স নামধারী বামপন্থী দলগুলো। এই নীরবতা প্রমাণ করে এরা সকলেই জাতিগত নিপীড়নে সরকারের ভূমিকার সমর্থক।
সংগ্রামী সাথীরা,
বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়িতে সংঘটিত ঘটনার তদন্ত করতে সরকার আজ পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল খাগড়াছড়ি-বাঘাইছড়ি পরিদর্শনে গেলেও তারা ক্ষতিগ্রস্থ পাহাড়ী জনগণের বক্তব্য শোনেন নি। এখন সরকার পাহাড়ে জনগণের কণ্ঠরোধ করতে সভা-সমাবেশ-মিছিলের উপর এই নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে।
সংগ্রামী দেশবাসী,
বাংলাদেশের লুটেরা সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজ শাসক শ্রেণী ও তার সরকার শ্রমিক-কৃষক জনগণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উপর শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। ভূমির উপর বংশপরম্পরাগত অধিকার থেকে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণকে বঞ্চিত করে তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কোন ধরনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি থেকে তাদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। নিজ দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উপর চরম দমন-পীড়ন-নির্যাতন চালানোই বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর নীতি। আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় এই নীতি আছে বলেই সম্প্রতি শেখ হাসিনার সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম-ত্রিপুরা-মেঘালয়-মিজোরাম-মণিপুর-নাগাল্যান্ড-অরুণাচলের বিভিন্ন জাতি-সমূহের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে সাম্রাজ্যবাদী ভারতের সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষর করতে পেরেছে, এবং বিএনপি-জামায়াত সহ শাসক শ্রেণীর বিভিন্ন দল এর বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে বিরত রয়েছে।
হাসিনা-মনমোহন চুক্তিতে সাম্রাজ্যবাদী ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হয়েছে, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর, আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ব্যবহারের জন্য তুলে দেয়া হয়েছে যাতে তারা উত্তর-পূর্ব ভারতের জনগণের সংগ্রাম দমনে বাংলাদেশের বুকের উপর দিয়ে অস্ত্র ও সৈন্য নিয়ে যেতে পারে। এই চুক্তির সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে চক্রান্ত করছে, সেখানে সৈন্য পাঠানোর পাঁয়তারা করছে। সুতরাং হাসিনা-মনমোহন চুক্তির বিরোধিতা করতে হলে একইসাথে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উপর দমন-পীড়ন-নির্যাতনের বিরোধিতা করতেই হবে। যারা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উপর দমন-পীড়ন-নির্যাতনের বিরোধিতা করবেন না তারা হাসিনা-মনমোহন চুক্তির সমর্থক, সাম্রাজ্যবাদী ভারতের সমর্থক হিসেবেই ভবিষ্যতে চিহ্নিত হবেন।
সংগ্রামী দেশবাসী,
বাংলাদেশের শ্রমিক-কৃষক, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের উপর সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন-ভারতের পদলেহী সরকার ও লুটেরা দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী শাসক শ্রেণীর শোষণ-শাসন উচ্ছেদ করে জনগণের সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আজকের দিনের প্রধান রাজনৈতিক সংগ্রাম। এই লক্ষ্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ১৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জনগণের মুক্তির এই ১৮ দফা বাস্তবায়নে দেশব্যাপী সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে তুলুন। আওয়াজ তুলুন :
১. অবিলম্বে খাগড়াছড়িতে সভা-সমাবেশ-মিছিলের উপর জারীকৃত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে অঘোষিত সেনা শাসন প্রত্যাহার কর। ‘অপারেশন উত্তরণ’ বাতিল কর।
৩. ১৯-২০ ফেব্র“য়ারি বাঘাইছড়িতে এবং ২৩ ফেব্র“য়ারি খাগড়াছড়িতে হত্যা, গৃহে অগ্নিসংযোগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টার ঘটনা তদন্তে গণতদন্ত কমিটি গঠন কর। দোষী আমলা-সেনা-সেটেলারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও।
৪. সেনা টহল ও তল্লাশীর নামে পাহাড়ী জনগণকে হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ কর।
৫. হাসিনা-মনমোহন চুক্তি বাতিল কর।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
৪.৫.২০১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: