আরব বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জনগণের উত্থান ও লিবিয়ায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের বক্তব্য

১.তিউনিসিয়ায় স্বৈরতন্ত্র বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বেন আলী বিতাড়িত হওয়ার পর মিশরে হুসনি মোবারকের বিরুদ্ধে শুরু হয় এক দেশ কাঁপানো গণঅভ্যুত্থান। সারা মিশর জুড়ে সেই অভ্যুত্থান শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট মোবারককেও ক্ষমতাচ্যুত করে। কিন্তু মিশরই শেষ নয়। এরপর থেকে আরব বিশ্বের একের পর এক দেশে অল্প বিস্তর তীব্রতার সঙ্গে শুরু হয় স্বৈরতন্ত্র বিরোধী গণবিক্ষোভ, যা ইয়েমেন ও বাহরাইনে গণঅভ্যুত্থানের আকার ধারণ করে। এই গণঅভ্যুত্থানের মুখে এখন ইয়েমেনের আবদুলাহ সালেহ এর স্বৈরশাসন উচ্ছেদ হওয়ার পথে।
২.তিউনিসিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের পর সারা আরব বিশ্ব জুড়ে অভ্যুত্থানের সংক্রমণ কেন হলো এ প্রশ্ন স্বাভাবিক। এ কথা ঠিক যে, তিউনিসিয়ায় গণঅভ্যুত্থান ও তার সাফল্যের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েই অন্যান্য দেশের জনগণ নিজেদের স্বৈর শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন। কিন্তু বিশাল অঞ্চল জুড়ে পরিস্থিতির মধ্যে একটা ঐক্য সূত্র না থাকলে একইভাবে দেশের পর দেশে তা ছড়িয়ে পড়ত না।
৩.এই ঐক্য সূত্রের দুটি দিক সহজেই লক্ষ্যণীয়। প্রথমতঃ সমগ্র আরব বিশ্বে গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় তার অভিজ্ঞতা এই অঞ্চলের জনগণের কোন দিন থাকেনি। তাঁরা রাজাবাদশা ও একনায়ক শাসকদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অধীনেই বসবাস করে এসেছেন। এর ফলে এই দেশগুলিতে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বলতে যা বোঝায় তার বিশেষ কোন অস্তিত্ব থাকে নি। তবে ইরাক ও সিরিয়ায় ছিল বাথ পার্টি এবং মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড ও কমিউনিস্ট পার্টি। মুসলিম ব্রাদারহুড ধর্মীয় পার্টি হলেও বাথ পার্টি ছিল সেক্যুলার ও এক ধরনের সমাজতান্ত্রিক চিন্তার দ্বারা প্রভাবিত। মিশরে নাসেরের সময় মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করা হয় এবং ক্রুশ্চেভের সহায়তায় কমিউনিস্ট পার্টির ওপর ফ্যাসিস্ট আক্রমণ চালিয়ে সেটা ধ্বংস করা হয়। ইরাক ও সিরিয়ায় বাথ পার্টি ক্ষমতা দখল করলেও দ্রুত পরিণত হয় স্বৈরতন্ত্রে। এইভাবে সমগ্র আরব জগতে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে জনগণ অতিষ্ঠ হলেও তার বিরুদ্ধে তাদের সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধ সেখানে কোন সময়েই থাকেনি। মিশর, ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, জর্ডান, ইয়েমেন ইত্যাদি দেশের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও কোন দেশেই জনগণের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ কোন গণজাগরণ সৃষ্টি করেনি। চাপা ক্ষোভ নিয়ে তারা স্বৈরশাসনের অধীনস্থ থেকেছে।
৪.আরব বিশ্বের মধ্যে ঐক্যসূত্রের অন্য দিকটি হলো, তাদের স্বৈরশাসকদের সাথে ইঙ্গ-ফরাসী-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সম্পর্ক। এই সম্পর্কের খুঁটিতে বাঁধা থেকেই আরব স্বৈরতন্ত্রীরা নিজেদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির যোগান পেয়ে এসেছে। এই সম্পর্ক ছাড়া একটানা স্বৈরশাসন এই অঞ্চলে যেভাবে দীর্ঘদিন টিকে থেকেছে সেভাবে থাকা সম্ভব ছিল না।
এ প্রসঙ্গে উলেখ করা দরকার যে, তেল স্বার্থ ছাড়া আরব শাসকদের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা ও এই অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদের অবস্থান উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, যে সব দেশে তেল নেই সে সব দেশেও সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রণ রাখার প্রয়োজন হয়েছে তেল স্বার্থে স্ট্রাটেজিক কারণে সমগ্র অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য। কাজেই স্বৈরশাসকদের সাথে সাম্রাজ্যবাদের ঐক্য বন্ধন এই অঞ্চলের এক বড় বাস্তবতা।
৫।এক্ষেত্রে স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বিক্ষোভ ও গণঅভ্যুত্থানের সময় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেও এই অভ্যুত্থান পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় নি। এর কারণ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও তার সাথে স্বৈরতন্ত্রের সম্পর্কের বিষয়টি সচেতনভাবে বোঝার মতো অবস্থা আরব জনগণের মধ্যে থাকেনি, যদিও তাদের একটা ক্ষুদ্র অংশের মধ্যে সেটা আছে। এর দ্বিতীয় কারণ হলো, এই সব দেশে সংগঠিত রাজনৈতিক দলের কার্যকর অস্তিত্ব না থাকা। হাতের কাছে ও চোখের সামনে স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানো ও তার মাধ্যমে স্বৈরশাসক হটানো যতখানি সহজ, সাম্রাজ্যবাদ দেশ থেকে উচ্ছেদ করা তত সহজ নয়। কারণ সাম্রাজ্যবাদ শুধু একজন স্বৈরশাসকের সাথেই সম্পর্কিত থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করে না। সেটা তারা করে সমগ্র প্রশাসন ও বিশেষতঃ সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্কিত থেকে। কাজেই স্বৈরশাসক তাড়িয়ে দিয়ে একই সাথে যদি প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে অকার্যকর ও পরাজিত না করা যায় তাহলে স্বৈরশাসক উৎখাত সত্ত্বেও সাম্রাজ্যবাদের অবস্থান কিছুটা রদবদল করে টিকে থাকতে পারে। তিউনিসিয়া ও মিশরে তাই হয়েছে। ইয়েমেনও তাই হতে চলেছে। বাঙলাদেশের ইতিহাসেও তাই দেখা যায়।
৬.লিবিয়ায় যা ঘটছে তার সাথে তিউনিসিয়া, মিশর ও ইয়েমেনের পার্থক্য এই যে, লিবিয়া অন্যদের মত সাম্রাজ্যবাদের গাঁট ছড়ায় বাঁধা থাকে নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও লিবিয়ায় যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তাতে সে দেশে যদি গাদ্দাফীর শাসন শেষ হয় তাহলেও সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে সেখানকার জনগণ মুক্তি পাবে না। গাদ্দাফী দীর্ঘদিন সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে নিজেদের সম্পদের ওপর দাঁড়িয়ে লিবিয়াকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। সে দেশের বর্ব্বর ট্রাইবাল জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ইত্যাদির ব্যবস্থা করে তাদের জীবনের অনেক উন্নতি সাধন করেছেন। মিশরের মতো তিনি সাম্রাজ্যবাদের অর্থ ও অস্ত্র সাহায্যের ওপর নিজের শাসনকে দাঁড় করান নি। সৌদী আরবের মত নিজেদের ধনসম্পদ জনগণের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সাম্রাজ্যবাদের গোলামীও তিনি করেননি। তিনি এক স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলে তেলের অর্থ দেশের জন্য ব্যয় করেছিলেন, যদিও এসবই আবার তিনি করেছিলেন এক প্রবল ট্রাইবাল স্বৈরতন্ত্রী হিসেবে। এ কাজ করতে গিয়ে তিনি দেশে গণতন্ত্রের লেশ মাত্র কখনো সহ্য করেন নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় লিবিয়ায় যে নতুন মধ্য শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে সেই মধ্য শ্রেণী ধন সম্পদের মালিক হলেও তাদের মধ্যে জন্মলাভ করেছে গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা ইত্যাদির আকাঙ্খা। স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই আকাক্সক্ষার বিরোধিতা করা হলেও তাকে বিনষ্ট করা যায় নি। এই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করার পথ কিছুদিন থেকেই লিবিয়ার জনগণ খুঁজছিলেন। এই সুযোগই এখন তাঁদের জন্য উপস্থিত হয়েছে। দেশের পূর্ব অঞ্চলে বেনগাজী শহরকে কেন্দ্র করে যে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল তার প্রেরণা এসেছিল তিউনিসিয়া ও মিশর থেকে। কিন্তু এ দুই দেশের অভ্যুত্থানের সাথে লিবিয়ার পার্থক্য এই যে, তিউনিসিয়া ও মিশরে যেখানে অভ্যুত্থানকারীরা নিজেদের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন লিবিয়ার অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষে সেটা সম্ভব হয় নি। তিউনিসিয়া ও মিশরের স্বৈরশাসকদের তুলনায় গাদ্দাফীর সমর্থন জনগণের মধ্যে, বিশেষতঃ পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চলে, যথেষ্ট। এ কারণে এবং কোন বহির্শক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় গাদ্দাফী পূর্ব অঞ্চলের বিদ্রোহীদেরকে দমনের জন্য ব্যাপক আকারে ও এককভাবে শক্তি প্রয়োগ করেছেন। তিনি তাদের ওপর বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করেছেন, স্থল বাহিনীও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। এর ফলে অসংগঠিত অভ্যুত্থানকারীরা প্রাথমিক প্রতিরোধের পর ছত্রভঙ্গ অবস্থায় নিজেদেরকে রক্ষার জন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির কাছে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে। বলা চলে, এই প্রথম আরব বিশ্বের কোন দেশে অভ্যুত্থানকারী জনগণ সরাসরি সাম্রাজ্যবাদকে নিজেদের মুক্তিদাতা বানিয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলিও লিবিয়ার জনগণকে গাদ্দাফির হত্যাকাণ্ড থেকে রক্ষার জন্য মানবিক কারণের অজুহাত দেখিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাশ করে লিবিয়ার তেলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে নেমেছে। লিবিয়ার মতো ইয়েমেনের সরকার অভ্যুত্থানকারী জনগণের ওপর গুলিবর্ষণ করে তাদেরকে হত্যা করে চলা সত্ত্বেও সেখানে “মানবিক” কারণে সাম্রাজ্যবাদীরা হস্তক্ষেপের কোন প্রয়োজন বোধ করে নি, কারণ ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট সালেহ তাদের সাথে স্বার্থের গাঁট ছড়ায় বাঁধা।
লিবিয়ায় যুদ্ধের পরিণাম শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে এটা সঠিকভাবে বলা এ পর্যায়ে সম্ভব নয়। তবে এটা অবশ্যই বলা যায় যে, লিবিয়ায় গাদ্দাফীর পূর্ণ কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং সেখানকার তেলের ওপর লিবিয়ার পরিবর্তে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হবে। তারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে লিবিয়ার তেল সম্পদ লুণ্ঠন করবে। এই উদ্দেশ্যে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি ইতিমধ্যেই লন্ডনে বৈঠকে বসে লিবিয়ার তেল কিভাবে ভাগাভাগি করবে তার আলোচনা শুরু করেছে।
গাদ্দাফীর পরাজয়ের পর সেখানে যে তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকার সাম্রাজ্যবাদের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের অধীন হয়ে গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তার কোন জাতীয় মেরুদণ্ড থাকবে না। স্বৈরতন্ত্রী গাদ্দাফীর পরিবর্তে লিবিয়া চলে যাবে সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রিত এক পুতুল সরকারের হাতে। গাদ্দাফীর ট্রাইবাল স্বৈরতন্ত্রের পরিবর্তে লিবিয়ার প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্রের নামাবলী পরিহিত এক ফ্যাসিস্ট শাসন, যে শাসন আমরা বিশ্বের অনেক দেশেই দেখে এসেছি এবং এখনো দেখছি।
৭. গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আরব বিশ্বের জনগণ দ্রুত সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে না পারলেও সেখানে গণবিক্ষোভ, গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের যে ঢেউ এখন দেখা যাচ্ছে তার মৌলিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তিও উপেক্ষার বিষয় নয়। কারণ যে স্বৈরতন্ত্রী শাসক ও শাসন ব্যবস্থা এ অঞ্চলে কায়েম থেকেছে লিবিয়া ছাড়া প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তা সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভরশীল, তারা সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থেই কাজ করে এসেছে এবং এখনো অন্য দেশগুলিতে করে যাচ্ছে। স্বৈরশাসন উচ্ছেদ সত্ত্বেও স্বৈরশাসন সাম্রাজ্যবাদের সহায়তায় নতুন ধরনে টিকে থাকলেও তা শিথিল হবে এবং এক ধরনের গণতন্ত্রায়ণ আরব বিশ্বে এর পর থেকে ঘটতে থাকবে। এই গণতন্ত্রায়নের প্রধান দিক হলো, দেশে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠা ও সে দলগুলি শক্তিশালী হতে থাকা। সেই সাথে সমাজতন্ত্রের চেতনা ও প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধির শর্ত তৈরি হওয়া, তার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা।
সাম্রাজ্যবাদের আশু সুবিধা সত্ত্বেও এই রাজনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত, এমনকি তার থেকে দ্রুত, আরব বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন পরিপক্ক ও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা।
৮.আরব বিশ্বের দেশে দেশে এখন যে গণঅভ্যুত্থান ঘটে চলেছে তার পরিণতি সব দেশে হুবহু একই হবে না। হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এর অভিজ্ঞতা থেকে যে শিক্ষা আরবদের জন্য এবং আমাদের জন্য আছে তা হলো, জনগণের সচেতন ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল ও শক্তি ব্যতীত কোন ক্ষেত্রেই সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। এটা দেশীয় স্বৈরশাসকদের ক্ষেত্রে যতখানি সত্য তার থেকেও অনেক বেশি সত্য সাম্রাজ্যবাদের ক্ষেত্রে।
৯.আরব বিশ্ব এবং বিশ্বের অন্য অনেক দেশে সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রণ কিভাবে কায়েম থাকে তা আমরা দেখি। আমাদের দেশেও এই নিয়ন্ত্রণ কিভাবে কায়েম থাকে তার অভিজ্ঞতাও আমাদের আছে। মেরুদণ্ডহীন শাসক শ্রেণী ও তাদের রাজনৈতিক দল, আমলাতন্ত্র, সিভিল সোসাইটি, ব্যবসায়ী মহল, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী সব কিছু সাম্রাজ্যবাদের সাথে গাঁট ছড়ায় বাঁধা থেকে কাজ করে। কাজেই তাদের যে সম্মিলিত এবং অখণ্ড শাসন আমাদের দেশে এবং আমাদের মত দেশে কায়েম থাকে তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এই সব শক্তির কোন একটির বা একাধিকের বিরুদ্ধে পরিচালনা করে দেশের জনগণের সম্পদ রক্ষা, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়। এই অখণ্ড শাসনের বিরুদ্ধে সামগ্রিক সংগ্রাম ব্যতীত জনগণের শোষণ মুক্তি, স্বৈরশাসন ও সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে মুক্তির কোন সম্ভাবনা নেই।
১০.এ কারণে সারা বিশ্ব জুড়ে এই সংগ্রামের ক্ষেত্রেও জনগণের একাত্মতার প্রয়োজন। এই প্রয়োজনবোধ থেকেই আমরা এই মুহূর্তে আরব বিশ্বের জনগণের স্বৈরশাসন বিরোধী গণআন্দোলন, গণবিক্ষোভ ও গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে। এই প্রয়োজনের তাগিদেই আমরা যে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছি সে আন্দোলন বিশ্ব জুড়ে সাম্রাজ্যবাদের পতনের শর্ত তৈরী করবে। গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের শর্ত দেশে দেশে এবং আমাদের দেশেও পরিপক্ক ও শক্তিশালী করবে।

কেন্দ্রীয় কার্যালয় : ১৭/২, তোপখানা রোড, শ্রমজীবী স্বাস্থ্যসেবা (৩য় তলা), ঢাকা-১০০০। মোবাইল : ০১৭১৩০৬৩৭৭৬ তারিখ : ২.৪.২০১১

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: