কমরেড বদরুদ্দীন উমরকে ৮০ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা

আগামী ২০ ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি কমরেড বদরুদ্দীন উমরের ৮০ তম জন্মদিন। তাকে শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিনন্দন।

বদরুদ্দীন উমর : সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি

১৯৩১   :         জন্ম ২০ ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহর। পিতা- আবুল হাশিম, অখণ্ড ভারতের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক; মাতা- মেহেরবানু বেগম।

১৯৪১    :         স্কুলে ভর্তি।

১৯৪৫   :         প্রথম তৎকালীন পূর্ববাংলায় বেড়াতে আসা ও এ অঞ্চলের গ্রাম-নদী-নালার সঙ্গে পরিচয়। ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও-এ মুসলিম লীগের নির্বাচনী সভায় যোগদান, ‘মিল্লাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রথম রচনা ‘বিদেশীরা প্রভুত্ব করিবে কেন?’

১৯৪৬   :         ১৬ আগস্ট কলকাতার ময়দানে পিতার সঙ্গে মুসলিম লীগের বিশাল জনসভায় যোগদান। এই কলকাতায় অভাবিতপূর্ব রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা শুরু। সাধারণ নির্বাচন এবং মুসলিম লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ। দিল্লীতে এ উপলক্ষে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পিতার সঙ্গে যোগদান।

১৯৪৭   :         ফেব্র“য়ারি মাসে ডাকঘর নাটকে অমলের ভূমিকায় অভিনয়। পিতার সঙ্গে কংগ্রেস নেতা শরৎচন্দ্র বসুর বাসায় গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ।

১৯৪৮   :         বর্ধমান টাউন স্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাস। বর্ধমান রাজ কলেজে আইএসসিতে ভর্তি।

১৯৫১   :         ১২ এপ্রিল দেশত্যাগ করে ঢাকায় আগমন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে আইএসসি পাস।

১৯৫২   :         ফেব্র“য়ারি মাসে রচনা করেন ‘আমাদের ভাষার লড়াই’ নামক পুস্তিকা। এটি ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কর্তৃক দশ হাজার কপি ছাপা হয়। আন্দোলনের সময় এটি মাইকে পড়া হতো। ১৪৪ ধারা ভাঙ্গা ও ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে পুরো সময় সক্রিয় অংশগ্রহণ।

১৯৫৩   :         ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে দর্শনে অনার্স।

১৯৫৪   :         ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকোলজি বিভাগে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকতা।

১৯৫৫   :         ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে Institute of Human Relation -এ গবেষণা সহকারী হিসেবে যোগদান। প্রথম শ্রেণীতে দর্শনে এমএ।

১৯৫৬   :         ১ নভেম্বর দর্শনের লেকচারার হিসেবে চট্টগ্রাম কলেজে যোগদান।

১৯৫৭   :         ১ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে যোগদান।

১৯৫৮   :         বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে কলকাতা, বেনারস, লক্ষেèৗ, আগ্রা, দিল্লী, লাহোর, পেশোয়ার শিক্ষা সফর।

১৯৫৯   :         চাচাত বোন সুরাইয়া হানম-এর সঙ্গে বিবাহ ৭ জুন। পাকিস্তান গভর্নমেন্টের স্কলারশিপ নিয়ে অক্সফোর্ডে পড়াশোনা। বিষয় দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি। ইংরেজিতে চচঊ। তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে অক্সফোর্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা ২৮ সেপ্টেম্বর।

১৯৬০   :         ইউরোপ ভ্রমণ। প্রথম সন্তান মসিহা আখতার বানু ফালুদা’র জন্ম।

১৯৬১   :         অক্সফোর্ডের কুইন্স কলেজ থেকে দর্শন-রাজনীতি-অর্থনীতিতে ডিগ্রী লাভ। ৬ আগস্ট অক্সফোর্ড থেকে দেশে ফেরা। সেপ্টেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে যোগদান।

১৯৬২   :         ২২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সন্তান সোহেলের জন্ম।

১৯৬৩   :         রাজশাহী বিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠা।

১৯৬৪   :         রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠা। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সোশ্যাল ওয়ার্ক কলেজেরও প্রতিষ্ঠাতা।

১৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় কন্যা সারাহ আখতার বানুর জন্ম।

পূর্ব মেঘ পত্রিকায় ‘সাম্প্রদায়িকতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশের ফলে ঢাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি।

১৯৬৫   :         লাহোরে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান।

১৯৬৬   :         সাম্প্রদায়িকতা গ্রন্থ প্রকাশিত হলে সাংস্কৃতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শাসকশ্রেণী পাকিস্তান বিরোধিতার জন্যে বদরুদ্দীন উমরের উপর ক্ষিপ্ত হয়।

বাংলা একাডেমীতে ২০ মে অনুষ্ঠিত আহমেদুর রহমান স্মরণসভায় ‘বাঙালী সংস্কৃতির সঙ্কট’ প্রবন্ধ পাঠ। এটাই ছিল তাঁর ঢাকায় প্রথম বক্তৃতা।

১৯৬৭   :         খাজা শাহাবুদ্দীন ও পাকিস্তান সরকারের রবীন্দ্রবিরোধী কর্ম তৎপরতার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর। ভাষা আন্দোলন বিজয়ের বই লেখার পরিকল্পনা।

ঢাকায় ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী সভায় ‘America’s freedom fights in Vietnam’ প্রবন্ধ পাঠ।

১৯৬৮   :         অক্টোবরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত গোর্কির জন্মশতবার্ষিকী সভায় বক্তৃতা।

লেখালেখির কারণে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের ক্রমাগত চাপ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর শামসুল হক বিরক্ত হয়ে বদরুদ্দীন উমরকে কিছুদিন লেখালেখি বন্ধ করার অনুরোধ করেন। ফলে অক্টোবর মাসে ভিসির হাতে অধ্যাপনায় ইস্তফাপত্র প্রদান।

৩১ ডিসেম্বর অধ্যাপনার মেয়াদ শেষ করে ঢাকায় আগমন।

১৯৬৯   :         পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-তে এপ্রিল মাসে যোগদান। প্রাথমিক অবস্থায় রাজশাহীতে পার্টির শাখা গঠনের চেষ্টা।

ভাষা আন্দোলন বিষয়ক ইতিহাস লেখার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, শেখ নজরুল ইসলাম প্রমুখ নেতার সাক্ষাৎকার গ্রহণ।

১৯৭০   :         ৮ই ফেব্র“য়ারি পার্টির পত্রিকা গণশক্তি প্রকাশ ও সম্পাদনা।

১৯৭১    :         মার্চের শেষ দিকে পার্টির দুজন বিশিষ্ট কর্মীর সঙ্গে ঢাকা ত্যাগ করে গ্রামে গিয়ে সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলার চেষ্টা। এ প্রতিজ্ঞা অনুসারে মুক্তি সংগ্রামের উদ্দেশ্যে অ্যামুনিশন, থ্রি নট থ্রি, চাইনিজ রাইফেল ইত্যাদি সঙ্গে নিয়ে ঢাকা ত্যাগ। এ সময় বিশেষ করে দক্ষিণ বাংলার গ্রাম-গঞ্জ পায়ে হেঁটে, কিছু পথ নৌকায় করে, প্রতি মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসাধারণকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংগঠিত করার প্রয়াস চালান।

ডিসেম্বর মাসে পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) থেকে পদত্যাগ।

১৯৭৩   :         বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রত্যাখ্যান।

১৯৭৪   :         সংস্কৃতি পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা। কমিউনিস্ট পার্টি পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ।

১৯৭৮   :         বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের প্রথম সম্মেলনে যোপদান।

১৯৭৯   :         বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের প্রথম সম্মেলনে যোপদান।

১৯৮১   :         বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ।

১৯৮৪   :         কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজা রাম মোহন রায় স্মারক বক্তৃতা প্রদান।

১৯৮৭   :         গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোট গঠনে নেতৃত্ব প্রদান।

অক্সফোর্ডে কুইন এলিজাবেথ হাউসে বক্তৃতা। ব্রাসেলস বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা। বিখ্যাত মার্কসীয় অর্থনীতিবিদ আর্নেস্ট ম্যান্ডেলের সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা।

১৯৮৮   :         হাইডেলবার্গ ও বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা। আর্নেস্ট ম্যান্ডেলের সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা।

১৯৮৯   :         কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ বিভাগে বক্তৃতা।

১৯৯০   :         আলবেনিয়া সফর।

১৯৯২   :         একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে ভূমিকা পালন।

১৯৯৪   :         যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফোবানা সম্মেলনে যোগদান। লন্ডন স্কুল অব অরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ-এ বক্তৃতা। ব্রাসেলসে আর্নেস্ট ম্যান্ডেলের সাথে ৩য় বার সাক্ষাৎ ও আলোচনা।

১৯৯৫   :         নিউ ইয়র্কে বেঙ্গল কনফারেন্সে যোগদান।

অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে সিপিআই (এম-এল) জনশক্তি আহুত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান।

১৯৯৮   :         দিল্লীতে অমিয়া এন্ড বি জি রাও স্মারক বক্তৃতা প্রদান।

২০০১   :         বিহারের পাটনায় সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন-এর কংগ্রেসে যোগদান।

২০০২   :         পশ্চিমবঙ্গের পানিহাটিতে বেগম রোকেয়ার সমাধিস্থান চিহ্নিতকরণ উপলক্ষে বক্তৃতা প্রদান ও ফলক উন্মোচন।

২০০৩   :         জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল গঠন, সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ।

২০০৪   :         মুম্বাইতে আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সম্মেলন ‘মুম্বাই রেজিসটেন্স ২০০৪’ উদ্বোধন।

২০০৫   :         অন্ধ্রপ্রদেশের রাজামুন্দ্রীতে সিপিআই (এম-এল) জনশক্তি আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান।

২০০৯   :         ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ।

২০১১    :         জাতিসত্তা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠনে নেতৃত্ব দান।

Advertisements

About বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন

শ্রমিকশ্রেণীর রাজনীতি বিকাশে সহায়ক ছাত্র সংগঠন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: