বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের আহবান

দেশ এখন এক রাজনৈতিক দুর্যোগপূর্ণ পথ অতিক্রম করছে -এমন কথা আজ সারা দেশ জুড়ে জনগণের সর্বস্তরে শোনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে এটা এখন জনগণের সর্বপ্রধান জিজ্ঞাসা। দেশের অবস্থা সম্পর্কে এই উৎকণ্ঠা ও দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এই আশঙ্কা এবং অনিশ্চয়তা কোন ফাঁকা ব্যাপার নয়। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এই পরিস্থিতির গর্ভেই এই উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কার জন্ম। বাংলাদেশে এখন সামাজিক শৃঙ্খলা ক্ষেত্রে যা কিছু বোঝায় তা এমনভাবে ভেঙে পড়ছে যাতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ভাঙন জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে তার সমস্ত লক্ষণ সমাজে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। পারিবারিক জীবনের শৃঙ্খলা পর্যন্ত ভেঙে পড়তে থাকা এরই এক দৃষ্টান্ত। কোন সমাজে এই অবস্থা সম্ভব হয় যখন দেশের শাসন ব্যবস্থা শুধু ভেঙে পড়তে থাকে তাই নয়, এই শাসন ব্যবস্থার আভ্যন্তরীণ সংকটই এই ভাঙনের প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে ও ত্বরান্বিত করতে থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাবে এখানকার শাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বলতে বিশেষ কিছু অবশিষ্ট নেই। রাষ্ট্রের কোনো সংস্থাই এখন নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে না, এটা বললেও কম বলা হয়। কোন ক্ষেত্রেই, সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া, কর্ত্যবরত লোকরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করে না। অবস্থা দেখে মনে হয় অল্প দিনের মধ্যেই এই সামান্য ব্যতিক্রমের দেখা আর পাওয়া যাবে না। এই অবস্থা সাধারণভাবে প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনী, আদালত, শাসক শ্রেণীর সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র যুব সংগঠন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিরাজ করছে। এই সাথে আছে মেরুদণ্ডহীন লেখক সাহিত্যিক শিল্পী বুদ্ধিজীবীর দল, যাদের প্রায় সমগ্র অংশই ব্যক্তিস্বার্থ এবং মতলববাজি ছাড়া অন্য কিছুই বোঝে না। এদের সামাজিক দায়িত্ববোধ বলে কিছু নেই। একটি দেশে এই পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে বিরাজ করার অর্থ হলো, আভ্যন্তরীণভাবে সমাজের সব কিছুই ধসে পড়ার মতো (Collapse) অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীন ইতিহাসে এই অবস্থাকে বলা হতো মাৎস্যন্যায়। বর্তমানে এরই নাম চরম নৈরাজ্য বা অরাজকতা। প্রাচীনকালে কোন দেশের এই অবস্থা হলেই সে দেশ অন্য দেশের দ্বারা আক্রান্ত হতো। দেশে শাসক পরিবর্তন হতো। এখনো নৈরাজ্যিক পরিস্থিতিতে এটাই ঘটে থাকে। কোন দেশ অন্য দেশের নিয়ন্ত্রণের অধীন হওয়ার এটাই পূর্ব শর্ত। ১৯৭২ সাল থেকেই গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ নয়, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম পর্বে রাষ্ট্রনীতির যে ভিত্তি কার্যক্ষেত্রে স্থাপিত হয়েছিল সেই ভিত্তির ওপরই দাঁড়িয়ে থেকে বাংলাদেশে একের পর এক সরকার, নির্বাচিত অথবা অনির্বাচিত যাই হোক, শোষক শ্রেণীর স্বার্থে দমনপীড়ন, অপহরণ, গুম খুন চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিডিআর/বর্ডার গার্ড ইত্যাদি সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে তারা নিজেদের হেফাজতে রেখে ও ক্রসফায়ারের নামে বিরোধী রাজনৈতিক লোকদেরকে হত্যা করছে। এখন হঠাৎ করে ক্রসফায়ার কিছুটা কমিয়ে এনে তারা অপহরণ, গুম খুন করছে। এই অপহরণ যে কী হারে হচ্ছে তার হিসাব শুধু চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী অথবা শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম এর দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যাবে না। ছাত্র, যুবক, নারী, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবী, পেশাজীবী ইত্যাদি আজ ব্যাপকভাবে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপহৃত ও গুমখুন হচ্ছে। নিজেদের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এরা কিভাবে হত্যাকাণ্ড করছে তার সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত টেলিভিশন সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকাণ্ড। বাস্তবতঃ বাংলাদেশ এখন পরিণত হয়েছে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। শোষণ ব্যবস্থা রক্ষা ও চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র সর্বস্তরের জনগণের বিরুদ্ধে, বিশেষতঃ শ্রমজীবী জনগণের ও তাদের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে, এখন প্রায় এক সর্বাত্মক আভ্যন্তরীণ যুদ্ধ পরিচালনা করছে। গ্রেফতার, পুলিশ ও র‍্যাব এর রিমান্ড, ক্রসফায়ার, আটক অবস্থায় মৃত্যু, অপহরণ, গুম খুন ইত্যাদি এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের নিয়মিত কাজ। এ সবের বিরুদ্ধে জনগণের রাজনৈতিক প্রতিরোধ এবং আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে তারা সভা সমাবেশ, মিছিল, দেওয়াল লিখন ইত্যাদির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। পোস্টার ও লিফলেট নিষিদ্ধের সম্ভাবনার কথাও এখন সরকারী মহল থেকেই শোনা যাচ্ছে। সরকারী মালিকানাধীন কলকারখানায় সরকার শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নে কাজ করতে দেয় না এবং দালালদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে। গার্মেন্ট কারখানাগুলিতে নিয়োগপত্র না দিয়ে এবং ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ রেখে পুরোপুরি ফ্যাসিস্ট কায়দায় শোষণ নির্যাতন চালাচ্ছে। এই শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামান্য প্রতিরোধও নিষ্ঠুরভাবে দমন করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার গড়ে তুলেছে শিল্প পুলিশ নামে এক বিশেষ সশস্ত্র বাহিনী। কৃষকরা আজ হাড়ভাঙা খাটুনীর পর ধানসহ কোন ফসলেরই উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না। বাজারে কৃষি পণ্যের দাম চড়া থাকলেও এই চড়া দামের ফায়দা কৃষকের ঘরে নয়, ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের ঘরেই যাচ্ছে। দেশে কৃষি সংস্কার ও ভূমি নীতির আমূল পরিবর্তন আজ জরুরী হয়েছে। এই পরিবর্তন ছাড়া কৃষকদের বিপন্ন ও দুর্দশাগ্রস্থ জীবনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অনেক কথাবার্তা ও সরকারের সমালোচনা হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য বিষয়ে কম লোকেরই ধারণা স্পষ্ট আছে। এটা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে সকাল-সন্ধ্যা যেভাবে আঘাত করতে থাকে, তাদের ঘুম এমনভাবে বি করে, এমন আর কোনো কিছুতেই ঘটে না। নিরাপত্তার প্রশ্ন শুধু খুন-খারাবী, অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যে নিরাপত্তার অভাব গরীব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষকে অবিরত অস্থির রাখে তা হলো, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি। এর মধ্যে যাতায়াত ব্যয়কেও গণ্য করতে হবে। নির্দিষ্ট আয়ের লোকদের মধ্যে শ্রমিকদের অবস্থান এক্ষেত্রে রীতিমত দুর্বিষহ। প্রকৃত মজুরী বৃদ্ধির কোনো ব্যবস্থা বছরের পর বছর পার হলেও তাদের ক্ষেত্রে নেই, অথচ মূল্য বৃদ্ধির মোকাবেলা তাদেরকে প্রতিদিন করতে হয়। প্রতিদিনই তাদের প্রকৃত মজুরী কমে। এর থেকে বড় নিরাপত্তাহীনতা আর কী আছে? তাঁদের অবস্থার এক শোচনীয় দিক হলো চিকিৎসার অভাব। অর্থ সামর্থ্য যাদের আছে তারা দেশে এ্যাপোলো, ইউনাইটেড, স্কয়ার ইত্যাদি হাসপাতালে এবং বিদেশে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, আমেরিকায় চিকিৎসা নিচ্ছে। কিন্তু গরীবের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। গ্রামাঞ্চলে যে চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে সেটা জড়িবুটি, দোয়া-দরুদের ‘চিকিৎসার’ থেকে বেশী কিছু নয়। খাদ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিরাপত্তার এই অভাব সমাজের ভিত্তিভূমিকে আজ নাড়া দিচ্ছে। আমরা আগেই বলেছি যে, একটি দেশে আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে যখন অরাজকতা দেখা দেয়, সমগ্র শাসন ব্যবস্থায় যখন অনতিক্রম্য ধস নামে, তখন সে দেশ বৈদেশিক আক্রমণের লীলাভূমিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশে আজ তাই হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বলে বাস্তবতঃ এখন আর কিছু অবশিষ্ট নেই। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় এখন সাম্রাজ্যবাদী মহলের নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার স্ট্রাটেজিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারতকে সঙ্গে নিয়ে যে চক্রান্ত কার্যকর করছে সে চক্রান্তের কারাগারে বাংলাদেশের জনগণ এখন বন্দী হয়েছেন। ২০১১ সালের গোড়ার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লী গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংএর সাথে এক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেন। সেই চুক্তির সামান্য অংশই সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া চুক্তিটিতে কি ছিল জনগণের তা জানা নেই। কিন্তু সেই চুক্তি পরবর্তী সময়ে ট্রানজিট, পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্ক, টিপাইমুখ বাঁধ, তিস্তা নদীর পানির হিস্যা, সীমান্তে হত্যা ইত্যাদি নিয়ে ভারত সরকার যা করছে তার থেকে প্রকাশিত হয় যে, সেই চুক্তিতে অধীনতাজনক অনেক কিছুই ছিল যা গোপন রাখা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ বাংলাদেশে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি গড়ার জন্য সরকারের সাথে ষড়যন্ত্র করছে। ইতিমধ্যেই তারা নানা বিভ্রান্তিকর নামে বাংলাদেশের সাথে কতকগুলি সামরিক চুক্তি সম্পাদন করে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। ভারত ট্রানজিট ইত্যাদির মাধ্যমে যে সব সুবিধা আদায় করার চেষ্টায় নিযুক্ত আছে ও বাস্তবতঃ যে সব সুবিধা তারা চুক্তি ছাড়াই অর্জন করছে তাতে বাংলাদেশ বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরো ক্ষতির দিকে এগিয়ে চলেছে। দেশপ্রেম, জনস্বার্থ ইত্যাদির বুলি সরকারের মুখে অহরহ শোনা গেলেও সরকারি লোকজন তাদের দলীয়, পারিবারিক ও ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য দেশের স্বার্থ বিক্রি করছে। বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল যে রায় দিয়েছে সেটা নিয়ে সরকার ও তার প্রধানমন্ত্রী ও সেই সঙ্গে তাদের দ্বারা প্রতিপালিত বুদ্ধিজীবীরা যে ন্যাক্কারজনক প্রচার কাজ করছে এর মত কেলেঙ্কারী অন্য কোনো দেশে আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি। বিভিন্ন দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ এভাবে অনেক হয়ে থাকে। তাতে জয়-পরাজয়ের কোনো ব্যাপারই থাকে না। তা নিয়ে কোন দেশই ঘটা করে উৎসবের চিন্তা করে না। কিন্তু বাংলাদেশে সেটাই দেখা গেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার মধ্যে। এই নির্লজ্জ আত্মপ্রচার প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সরকার ও সামগ্রিকভাবে শাসক শ্রেণী জনগণকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে কত হীন কার্যকলাপে নিযুক্ত হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে মায়ানমার বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের থেকে বেশি এলাকা পেয়েছে। কাজেই তারা এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই পরাজিত হয়নি। কিন্তু এ নিয়ে তারা কোন বিজয় উৎসব করেনি। এতো গেল পরিস্থিতির একটি দিক। এর অন্য দিক হলো বাংলাদেশ যতখানি এলাকা আইনগতভাবে নিজের অধিকারে পেয়েছে তাতে বাংলাদেশের নয়, প্রকৃতপক্ষে সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহ বিশেষতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রকৃত লাভ হয়েছে। সরকার তাল্লো এবং কনোকো ফিলিপসকে সমুদ্রে গ্যাস ক্ষেত্র ইজারা দিলেও দুদেশের সীমানা আইনগতভাবে চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের পক্ষে কাজ শুরু করা সম্ভব ছিল না। এখন তারা অবাধে নিজেদের কাজ করবে। দেশের স্থলভাগে বাংলাদেশ যেমন সাম্রাজ্যবাদীদেরকে গ্যাস ক্ষেত্র ইজারা দিয়ে তাদের লাভ ও দেশের ক্ষতির ব্যবস্থা করেছে, তেমনি সমুদ্রের গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা হয়েছে। কাজেই বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণে যদি কারো প্রকৃত জয় হয়ে থাকে সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশের। ভবিষ্যতে এরাই বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের তেল-গ্যাস সম্পদ বড়ো আকারে লুটপাট করবে। শুধু আওয়ামী লীগই নয়, শাসক শ্রেণীর যে কোন দলই ক্ষমতায় আসুক, এটাই ঘটতে থাকবে। কারণ বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী আজ পুরোপুরি সাম্রাজ্যবাদের অধীন। বাংলাদেশ এখন এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যা দেশের সংবিধান অনুযায়ী ঠিকমতো পরিচালিত হচ্ছে না। বলা চলে, বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই সংবিধানকে পদদলিত করে চরম স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে তারা এই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। শাসক শ্রেণীর নিজেরই যখন এই অবস্থা তখন এই সংবিধান যে জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ অকার্যকর, এ নিয়ে কোন বিতর্ক অর্থহীন। তাই জনগণের আজ প্রয়োজন এক নতুন সংবিধান। এই সংবিধান প্রণয়ন করতে হলে বাংলাদেশে এখন যে নির্বাচন ব্যবস্থা আছে, যে শর্তের অধীনে এখন নির্বাচন হচ্ছে তা বর্জন ও বাতিল করতে হবে। এর জন্য দেশব্যাপী এক রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান শাসন ব্যবস্থা ফেলে দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সংবিধান সভা গঠন করতে হবে। শাসক শ্রেণীর শৃংখল থেকে মুক্ত হওয়ার এটিই একমাত্র পথ। বাংলাদেশে সংসদীয় বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি এখনও পর্যন্ত কোনমতে তাদের শারীরিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে, তারা শাসকশ্রেণীরই অংশ। কাজেই শাসক শ্রেণী ও সাম্রাজ্যবাদের শৃঙ্খল মুক্ত হওয়ার সংগ্রামে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। উপরন্তু তারা আজ সর্বতোভাবে শাসকশ্রেণীর গুপ্তচর হিসেবেই কাজ করছে। এই অথর্ব ও নিবীর্য বামপন্থী দলগুলির দিকে না তাকিয়ে, জনগণকে নতুনভাবে সংগঠিত হতে হবে। লেনিন বলেছিলেন, সংগঠন ছাড়া গরীবের আর কিছুই নেই। কাজেই সংগঠন গড়ে তুলে, তার মাধ্যমেই আজ বাংলাদেশের জনগণকে, এদেশের তরুণ ও যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। সমাজে পরিবর্তনের আকাংখা জোরদার হয় যখন মানুষ পরিবর্তন সম্ভব মনে করে। মানুষের নিজেদের বঞ্চনা এবং শোষক শাসক শ্রেণীর বেপরোয়া ভোগ বিলাসের তুলনা তাদের চেতনাকে প্রখর করে। এই প্রখর চেতনাই তাদের মধ্যে সংগঠিত হওয়া ও সংগ্রাম করার তাগিদ সৃষ্টি করে। বর্তমানে জনগণের মধ্যে এই তাগিদ ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে। এই তাগিদকে সক্রিয় করা ও সংগঠিত রূপ দেওয়া, এই তাগিদকে ঘরোয়া সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বা নিষ্ফল কিছু কার্যকলাপের মরুভূমিতে হারিয়ে যেতে না দিয়ে তাকে সংগ্রামে পরিণত করাই প্রগতিশীল, বিপ্লবী ও সমাজতান্ত্রিক শক্তির কর্তব্য। এই বিপ্লবী শক্তিকে আজ শুধু জনগণের দেশীয় শত্রুদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নিযুক্ত হলেই চলবে না। আমাদের দেশকে আজ মার্কিন, ইউরোপীয়, ভারতীয়, সৌদি ইত্যাদি বিদেশী রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী এবং আধিপত্যবাদী প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করার জন্যও সংগ্রাম করতে হবে। কারণ বাংলাদেশে আজ দেশীয় পুঁজি, ভূমি মালিক এবং অন্য শত্রুদের এক অখণ্ড শোষণ নির্যাতন জারী আছে। দেশীয় শ্রেণী শত্রু ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম আজ অপরিহার্য হয়েছে। তাই দেশ ও জনগণের শত্রুদেরকে পরাজিত করার পবিত্র কর্তব্য সম্পাদনের জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। এই গণসংগ্রামে দেশের সকল প্রগতিশীল, বিপ্লবী ও সমাজতান্ত্রিক শক্তিকে এগিয়ে আসার জন্য, বাংলাদেশে একটি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েমের জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। ১১.৫.২০১২

Advertisements

About বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন

শ্রমিকশ্রেণীর রাজনীতি বিকাশে সহায়ক ছাত্র সংগঠন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: