জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ ও জাতীয় গণফ্রন্ট-এর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য ও আন্দোলন কর্মসূচি

 ১১ জুন ২০১৩, ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা (৫ তলা), ঢাকা

শ্রমিক কৃষকসহ নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সরকার-সংবিধান ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদ রুখে দাঁড়ান

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

দেশে আজ সংসদীয় শাসনের আড়ালে একদলীয় আওয়ামী-বাকশালী ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকারের গত সাড়ে ৪ বছরের দুর্নীতি লুণ্ঠন সন্ত্রাস গণহত্যা দেশবিরোধী কর্মকান্ড তাদের জনগণ থেকে এতোটাই বিচ্ছিন্ন করেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা তারা দেখতে পাচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। সভা-সমাবেশ-মিছিলে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে বাধা দিয়ে ও হামলা করে সংগঠন করার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। সরকারবিরোধী নেতবৃন্দকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা সরকার বিরোধীদের গুম, ক্রসফায়ারের নামে হত্যা, গ্রেফতার ও রিমান্ডের নামে নির্যাতন নিত্যনৈমিত্তিক কাজ হয়ে উঠেছে। একইসাথে সরকার সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপসহ নানাভাবে নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। এখন নিরাপত্তার অজুহাত তুলে সরকার রাজধানী ঢাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অন্যদিকে, শাসক-শোষকশ্রেণীর ক্ষমতা বহির্ভূত অংশ, জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এবং জাতীয় ও জনজীবনের সমস্যা দূরীকরণে কোন কর্মসূচী গ্রহণ না করে শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে জ্বালাও-পোড়াও-হরতাল করছে। পঞ্চদশ সংশোধনীসহ সংবিধানের অগণতান্ত্রিক ধারা ও কালাকানুনের কোন রাজনৈতিক বিরোধিতা না করার মাধ্যমে তারা কার্যতঃ সরকারের ফ্যাসিবাদী নীতিকে সমর্থন জানিয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে হাসিনা সরকারের সুবিধাবাদী ও প্রতারণামুলক ভূমিকাকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতৃবৃন্দের আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার বানচাল করতে দেশময় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলেছে। পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে সরকার পুলিশ দিয়ে গুলি করে ব্যাপক হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। সরকারের ফ্যাসিস্ট হামলা কোথাও কোথাও জনগণের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। একে বিএনপি-জামায়াত ব্যবহার করছে। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম নামক সংগঠন চরম প্রতিক্রিয়াশীল ও নারী বিদ্বেষী ১৩ দফা দাবী তুলে ঢাকায় সমাবেশ করেছে। ধর্ম অবমাননার কথা বলে তারা কয়েকজন ব্লগারের শাস্তির দাবি করেছে। হাসিনা সরকার তাদের সাথে এ বিষয়ে হাত মিলিয়ে কয়েকজন ব্লগারকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু হেফাজতের লক্ষ্য একদিকে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা এবং অপরদিকে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার হওয়া। প্রথম থেকেই সরকার এই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলিভাবে জনগণের কাছে যায়নি, একে শ্রেণীগত কারণে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করেনি। গত ৫-৬ মে ঢাকায় সরকারের নির্দেশে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গভীর রাতে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির ১০ হাজার সদস্যের সম্মিলিত বাহিনী অপারেশন শাপলা অভিযান চালায়। এ অভিযানে কয়েক লাখ রাউন্ড গুলি, টিয়ারসেল, গ্রেনেড নিক্ষেপ করে রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। এ অভিযানে একজনেরও মৃত্যু হয়নি বলে সরকার বলেছে। বাস্তবত সরকার হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পূর্ণ গোপন করেছে। আওয়ামী লীগের লেজুড় বামপন্থী দলগুলি সা¤্রাজ্যবাদ-পুজিবাদ নয়, ধর্মীয় মৌলবাদ প্রধান বিপদ এই আওয়াজ তুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বর্তমান সরকার ও আওয়ামী লীগ এই দুটিকেই বাঁচানোর চেষ্টা করছে। একই সাথে তারা বাঙালি জাতীয়তাবাদের উপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদকে মদদ যোগাচ্ছে। সরকারের বাইরে বামপন্থী দল ও জোট ‘৭২-এর সংবিধানকে মহিমান্বিত করে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদকে শক্তি যুগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সরকার তার অব্যাহত গণবিরোধী কর্মকান্ডের দ্বারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরকারের জনসমর্থন প্রতিদিনই হ্রাস পাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, চরম মজুরী শোষণ, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, বেকারত্ব, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, সারাদেশে সরকার দলীয় সন্ত্রাস-টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি, শিক্ষাঙ্গনে সরকার দলীয় সন্ত্রাস ও প্রশাসনিক নির্যাতন, পার্বত্য জেলাসমূহে সেনাশাসন ও সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ওপর নির্যাতন, নারী নির্যাতন, আগুনে পুড়ে-ভবন ধসে হাজার হাজার গার্মেন্ট শ্রমিককে হত্যা ও নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধদের ঘরবাড়ি উপাসনালয়ে হামলা, রাষ্ট্রের ভূমিদস্যুতায় কৃষকের জমি বেদখল, উত্তরবঙ্গে সাঁওতাল, মুন্ডা প্রভৃতি জাতিসত্তার উপর হামলা-জমি দখল, সরকার-প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় খাল-নদী-বিল দখল, প্রশাসনিক দুর্নীতি, বিদ্যুৎ জ্বালানী তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, রেলের ভাড়া দ্বিগুণ বৃদ্ধি, সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা, বিশ্বজিৎ হত্যা প্রভৃতি ঘটনা জনজীবনকে নিরাপত্তাহীন ও দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর পাশাপাশি রয়েছে সরকারের বিশাল আকারে দুর্নীতি ও লুণ্ঠন পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতি, রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট, রেলের দুর্নীতি-নিয়োগ বাণিজ্য, শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, হলমার্ক ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট, ব্যাংক থেকে অর্থলোপাট প্রভৃতি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা বর্তমানে দেশকে গ্রাস করে ফেলেছে। দেশের তেল, গ্যাস ও কয়লা জাতীয় সম্পদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানির দখল কায়েম হয়েছে। শাসকশ্রেণীর সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় বর্বর গার্মেন্ট মালিকদের চরম মজুরী শোষণ কায়েম রাখতে বাংলাদেশে শ্রমিক গণহত্যা চলছে। মাত্র ৫ মাসে সাভারের রানা প্লাজা ধসে, আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশন ও মোহাম্মদপুর স্মার্ট গার্মেন্টে আগুনে পুড়ে দুই সহস্রাধিক শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন, নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশত, আহত-পঙ্গু হয়েছে কয়েক হাজার। শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রধানতঃ সরকার ও রাষ্ট্রের। সরকার-রাষ্ট্র এই দায়িত্ব পালনে শুধু ব্যর্থ নয়, চরম উদাসীন ও গার্মেন্ট মালিকদের রক্ষায় ব্যস্ত। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হাসিনা সরকার বাংলাদেশকে একই সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবলয়ের অন্তর্গত করেছে এবং ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশীদার করেছে। এর মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী বেনামি যুদ্ধের (ঢ়ৎড়ীু-ধিৎ) বিপজ্জনক ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সাথে সাম্রাজ্যবাদী বেনামি যুদ্ধ (proxy-war) এখন জড়িয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে হাসিনা সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রমিকশ্রেণী ও নিপীড়িত জাতি সমূহের স্বাধীনতা ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম দমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলে সরকার কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালত গঠন, আইনের ফাঁক-ফোকর, অযোগ্য আইনজীবী নিয়োগ, চার্জ গঠন, তথ্য-প্রমাণ, দলিল-দস্তাবেজ, সাক্ষ্য, সওয়াল জবাব প্রতিক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োজিত প্রসিকিউটর এবং মামলার তদন্তকার্য কর্মকর্তাদের অবহেলাই ইঙ্গিত করছে যে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় ছিল পরিকল্পিত। সরকার-জামায়াত গোপন আঁতাত এভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়লে শাহবাগে তরুণরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তরুণদের এই বিক্ষোভ ছিলো ন্যায়বিচারের দাবিতে। কিন্তু সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের লেজুড় বামপন্থী দলসমূহ, দালাল বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ বিক্ষোভকে সামাল দেয় এবং সরকারের আর্থিক-প্রশাসনিক সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় একে সরকারবান্ধব এক বিক্ষোভে পরিণত করে। শাহবাগ আন্দোলনের প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টার সমর্থন ঘোষণাও দিল্লির ইচ্ছাকে জানান দেয়। শাহবাগ আন্দোলনে সরকারের সংশ্লিষ্টতা, সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের দিকটি উন্মোচিত হয়ে পড়লে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কমে যায়।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

এদেশে জনগণ দীর্ঘদিন শোষক-শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সংগ্রাম করে আসছেন। প্রচলিত নির্বাচনের মাধ্যমে একের পর এক সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে। এইভাবে নির্বাচিত প্রত্যেকটি সরকারই জনগণকে দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণভাবে ভঙ্গ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে ব্যবস্থা ও শর্তের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে জনগণের ভোট প্রদানের এক মহড়া অনুষ্ঠিত হলেও এর মাধ্যমে কোনো প্রকৃত প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ও শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এর মধ্য দিয়ে জনগণের হাতে কোন ক্ষমতা আসে না। তাই জনগণ আজ দেশের শাসন ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন চান। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদ-ভারত ও তার দালাল শাসকশ্রেণীর শাসনের অবসান চান। আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টির রাজনীতির অবসান চান। জনগণের এই বিপ্লবী আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে আমরা ৪টি সংগঠন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ ও জাতীয় গণফ্রন্ট বিগত কয়েক বছর ধরে ইস্যুভিত্তিক যৌথ আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছি। বর্তমান সঙ্কটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান, আসুন, উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদকে রুখে দাঁড়াই। রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলি। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদ-ভারত ও তার দালাল শাসক শ্রেণীকে উচ্ছেদ করে বাংলাদেশে শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের গণতান্ত্রিক সরকার সংবিধান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হই ও দেশজোড়া সংগ্রাম গড়ে তুলি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা নিম্নোক্ত দাবিতে দেশব্যাপী দাবী দিবস, হাটসভা, পথসভা, জনসভাসহ আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা করছি।

১। ​ঢাকাসহ সারাদেশে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা, বাধা প্রদান ও হামলা বন্ধ করতে হবে। সভা করতে পুলিশের অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ বাতিল করতে হবে। ঢাকার মুক্তাঙ্গনকে সভা-সমাবেশের জন্য খুলে দিতে হবে।

২। ​সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীসহ সকল অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করতে হবে। দেশের সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করতে হবে।

৩।​অবিলম্বে বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাস দমন আইন, ৫৪ ধারা প্রভৃতি কালাকানুন বাতিল করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অঘোষিত সেনাশাসন অপারেশন উত্তরণ তুলে নিতে হবে।

৪। ​অবিলম্বে দৈনিক সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়া-সামাজিক মাধ্যমের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাতিল ও নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে।

৫।​বিগত ৩ মাসে সারাদেশে পুলিশের গুলিতে তিনশতাধিক মানুষকে হত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে। গত ৫-৬ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকান্ডের তদন্তে গণতদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। বায়তুল মোকাররম ও পল্টন এলাকার সহিংসতার তদন্ত ও বিচার করতে হবে। আন্দোলন ও আন্দোলন প্রতিরোধের নামে বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগের সহিংসতার তদন্ত ও বিচার করতে হবে।

৬।​ক্রসফায়ারের নামে বিনাবিচারে রাষ্ট্রীয় হত্যা, গুম বন্ধ করতে হবে এবং এ ধরনের সকল হত্যার বিচার করতে গণতদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।

৭।​সকল ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস ও মনুষ্যোচিত মজুরী দিতে হবে। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী প্রস্তাবিত শ্রম আইন ২০১৩ বাতিল করতে হবে। শিল্প পুলিশ ও শিল্প গোয়েন্দা বাতিল করতে হবে। রানা প্লাজাসহ ভবন ধসে ও আগুনে পুড়ে কয়েক হাজার শ্রমিক গণহত্যাকারী গার্মেন্ট মালিকদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। ২৪ এপ্রিল গার্মেন্টস শ্রমিক গণহত্যা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে। শ্রমিক গণহত্যা স্মরণে সাভারে রানা প্লাজায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে হবে।

৮।​গ্রামাঞ্চলসহ রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী সাহায্য সংস্থার (এনজিও) চক্রান্ত ও অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

৯।​শিক্ষাঙ্গনে সরকারদলীয় সন্ত্রাস ও প্রশাসনিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

১০।​স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একাত্তরের সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।

১১।​ ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের ঘরবাড়ি-উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগকারীদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। ভূমি বেদখল ও বাস্তুুভিটা থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে। ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। মসজিদ মন্দির সহ সকল ধর্মীয় স্থান রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

১২।​তেল, গ্যাস ও কয়লা ক্ষেত্রে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল উৎপাদনবণ্টন চুক্তি বাতিল করতে হবে। পরিবেশ ধংস করে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সুন্দরবন ধংস করে রামপালে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। ফুলবাড়ির চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

১৩।​দেশের নিরাপত্তা বিপন্নকারী হাসিনা-মনমোহন চুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত সোফা, যৌথ অংশীদারী সংলাপ, যৌথ সামরিক মহড়া প্রভৃতি গোপন ও অসম চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ ও বাতিল করতে হবে।

১৪।​ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্রদূতদের রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

আগামী কর্মসূচি
১৬ জুন বিকেল ৪টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ।
* ২০ জুন থেকে ২০ জুলাই দেশব্যাপী প্রচার জনসংযোগ।                      
 * আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় চার সংগঠনের জাতীয় প্রতিনিধি সভা।

ডা. ফয়জুল হাকিম
সম্পাদক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
জাফর হোসেন

সভাপতি নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা
মাসুদ খান
আহ্বায়ক জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ
টিপু বিশ্বাস
সমন্বয়ক জাতীয় গণফ্রন্ট

অস্থায়ী কার্যালয় : ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা (৫ তলা), ঢাকা-১০০০।
০১৭১৩০৬৩৭৭৬, ০১৯১৫২২১৯৮০, ০১৭১২৬৭০১০৯, ০১৭১১৯৭০৫১২।

Advertisements

About বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন

শ্রমিকশ্রেণীর রাজনীতি বিকাশে সহায়ক ছাত্র সংগঠন।

One response »

  1. পিংব্যাকঃ জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সহ ৪ সংগঠনের আন্দোলনের কর্মসূচি | সি.এইস.টি ২৪

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: