শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৩ বাতিল কর

২৫ রমজানের আগেই শ্রমিকদের বেতন,বোনাস, ওভারটাইম, মজুরীসহ সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে

বন্ধুগণ
আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সরকারী হিসেবে ১১৪ জন শ্রমিক নিহত এবং সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১১৩০ জন শ্রমিক নিহত, প্রায় দুই হাজার শ্রমিক আহত ও পঙ্গু হয়। সেই সাথে প্রায় ৫শতাধিক শ্রমিক নিখোঁজ হলে সারা দুনিয়া জুড়ে এ শ্রমিক গণহত্যার প্রতিবাদে ঝড় ওঠে। আমেরিকার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ থেকে পোষাকক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট, গ্যাপ এর সম্মুখে গত ৩০ জুন কয়েকশত বিক্ষোভকারী এই শ্রমিক গণহত্যার প্রতিবাদে ও বাংলাদেশের শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ করে।
রানা প্লাজার ঘটনার পরই সাভার, আশুলিয়াসহ সারাদেশে শ্রমিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা হত্যার জন্য দায়ী মালিকদের সর্বোচ্চ শাস্তি, মজুরী বৃদ্ধি ও কাজের পরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবীতে শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনের চাপে গত ১২ জুলাই সরকার ন্যুনতম মজুরী বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু ঠিক কবে নাগাদ এ মজুরী ঘোষিত হবে এবং কি কি মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ মজুরী নির্ধারণ করা হবে সেই বিষয়ে সরকার ¯পষ্ট কোন বক্তব্য দেয়নি। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের এক সমীক্ষায় দেখাযায়, একজন কর্মক্ষম শ্রমিকের চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের সুষম খাদ্যে ব্যয় হয় ১০ হাজারের বেশী টাকা। সেই সাথে মোট ব্যয়ের ৫৫% ঘরভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়, জামা-কাপড় ইত্যাদি সব খরচ মিলিয়ে ১৮,০০০ টাকা প্রয়োজন হয়, শ্রমিকের জীবন রক্ষা করে শ্রমের পুনরুৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায়। লুটেরা মালিকরা শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা দিতে চায়না ও মজুরী নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দান করে। তাঁরা মুনাফা হতে শ্রমিকের মজুরী দানের কথা বলছে! আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাজারে টিকে না থাকতে পারার অজুহাত দিচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকের মজুরী পণ্য বিক্রয়ে উপার্জিত অর্থ হতে বাদ দেয়ার পরই কেবল অতিরুক্ত অর্থ মালিকের লাভের খাতায় জমা হয়। অর্থাৎ একজন মালিক কখনই তাঁর লাভ হতে শ্রমিকের মজুরী দেয়না। আর বিশ্ব প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে বেশি মুনাফার লক্ষ্যেই বিদেশী ক্রেতারা অন্যদেশ ছেড়ে দিয়ে এই দেশে আসছে, কাজেই ক্রেতারা চলে যাবে! ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে! এই সব যুক্তি অবান্তর ও প্রতারণা মূলক।

বন্ধুগণ
মাত্র ৩০০০ টাকা মজুরীতে একটি শ্রমিক পরিবার চলতে পারেনা। তাই পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে এনে কাজে পাঠানো হয়। বাড়তি আয়ের জন্য শ্রমিকরা ওভারটাইম করে। কিন্তু মালিকেরা এই ওভারটাইমেও ঠকায়। ওয়ার্কশিটে বা হাজিরা কার্ডে প্রতিমাসে ১৫-২০ ঘন্টা ওভারটাইম কম লিখে বা কেটে নেয়া হয়। আবার কোন কোন গার্মেন্টে টার্গেট পূরণ হয়নি এই অজুহাত দেখিয়ে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বিনা মজুরীতে কাজ করায়। শ্রম আইন অনুযায়ী স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার চেয়ে দ্বিগুণ হারে মাসিক (মজুরী / ২০৮ঘন্টা ২=ওভারটাইম) দেয়ার বিধান থাকলেও দেয় স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা হিসেবে। এটি পরিস্কার জোচ্চুরী।
গত ১৫ জুলাই ২০১৩ জাতীয় সংসদে সরকার বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৩ পাশ করেছে। এই আইনের বলে মালিকরা একসঙ্গে ১০ দিন অনুপস্থিত থাকলে শ্রমিককে তাঁর পাওনা না দিয়েই ছাঁটাই করতে পারবে। এছাড়া এই শ্রম (সংশোধনী) আইন শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সীমিত করে রেখেছে। শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী এই আইন বাতিলে আমাদের সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

বন্ধুগণ,
১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘন্টা কর্মদিবসের দাবীতে শ্রমিকরা রক্ত দিয়েছিল। আজকে দুনিয়া জুড়ে মে দিবস পালনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেই ৮ ঘন্টা কর্মদিবস হিসেবে চালু করা হয়েছে। ৮ ঘন্টা শ্রম, ৮ ঘন্টা ঘুম, ৮ ঘন্টা বিনোদন হিসেবে দিনকে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের লুটেরা বড়লোক ও মার্কিন-ভারতের দালাল সরকার  আন্তর্জাতিক  সনদে স্বাক্ষর দিলেও মালিকের স্বার্থে ১৪ ঘন্টা কাজ করাকে মেনে নিয়েছে। তাই আজকে শ্রমিক বন্ধুদের ৮ ঘন্টা কর্মদিবস চালু ও বাঁচার মত ১৮০০০ টাকা মজুরীর দাবীতে আন্দোলন করতে হবে।

বন্ধুগণ,
প্রতিবছরে রমজান আসলে দেখা যায়, মালিকরা বোনাস ও বেতনভাতা দেয়ার ভয়ে বেতন-ভাতা না দিয়েই কিছু শ্রমিককে ছাঁটাই করে দেয়। কোন কোন গার্মেণ্টে নিয়ম অনুযায়ী পুরো বোনাস (১ মাসের বেতনের সমপরিমাণ) না দিয়ে হাফ বোনাস দেয়। বেশীর ভাগ গার্মেন্টে ওভারটাইম আটকে রাখে। আবার বেতন বোনাস এমন সময়ে দেয় যখন শ্রমিকরা কেনাকাটা করার সময় পায়না। কিছু কিছু গার্মেন্ট শিল্পকারখানা বেতন বোনাস না দিয়েই বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধ করে দেয়। তাই মালিকদের এইসব অনিয়মের প্রতিবাদে এবং ২৫ রমজানের আগেই বেতন,বোনাস ,ওভারটাইম, মজুরীসহ সকল পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ২৬ জুলাই শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে যোগ দিন।

আওয়াজ তুলুনঃ
১.    শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী শ্রম আইন ২০১৩ বাতিল কর।
২.  ২৫ রমজানের আগেই শ্রমিকদের বেতন, বোনাস, ওভারটাইম, মজুরীসহ সকল পাওনা পরিশোধ  করতে হবে।
৩.   রানা প্লাজার মালিকসহ খুনি গার্মেন্ট মালিকদের দ্রুত আইনে বিচার কর।
৪.    নির্যাতনকারী  মালিক কর্মকর্তাদের আইন করে শাস্তি দাও।
৫.    শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ কর। স্থায়ী নিয়োগপত্র দাও, শ্রমিকের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর।
৬.   ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস ও ১৮০০০ টাকা মজুরী দাও। বাধ্যতামূলক ওভারটাইম বাতিল কর। সাপ্তাহিক, বাৎসরিক, নৈমিত্তিক ও অসুস্থতার জন্য ছুটি চাই।

শ্রমিক সমাবেশ
স্থানঃ জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে
তারিখঃ ২৬ জুলাই, ২০১৩,  শুক্রবার  সকাল ১০টা

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন
বাংলাদেশ গার্মেন্টস মজদুর ইউনিয়ন

ঢাকা অঞ্চল
৩৩,তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, ৪-জি (৫ম তলা), ঢাকা-১০০০ ফোন- ০১৬৮৪০০০৮৭২, ০১৬৭৪৬৯০৪২৯ তারিখঃ ১৮/৭/২০১৩

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: