বাংলা একাডেমীতে মুক্তবুদ্ধি চর্চায় নগ্ন হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

বদরুদ্দীন উমরের গ্রন্থ ‘ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য’ তথ্যকেন্দ্রে প্রচার নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে
লেখক শিল্পী সংস্কৃতি কর্মীদের সমাবেশ

২৫ ফেব্র“য়ারি শুক্রবার বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে
বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রচয়িতা, গবেষক ও প্রাবন্ধিক বদরুদ্দীন উমরের লেখা ‘ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য’ বইটি বইমেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রচার নিষিদ্ধ করেছেন। বইটি প্রকাশের চার বছর পর এবং এর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি এর মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমী মুক্তবুদ্ধি চর্চার ওপর নগ্ন হামলা চালিয়েছে।
বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেছেন বইটিতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান মুহম্মদ ইউনূসকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি ‘ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য’ বইটির বর্তমান সংস্করণের প্রকাশক সম্পর্কেও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন (দেখুন ‘বদরুদ্দীন উমরের ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্রে নিষিদ্ধ’, দৈনিক আমাদের সময়, ২১/২/২০১১) বইটি সম্পর্কে ইউনূস বা তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রামীণ ব্যাংক ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে কোন বক্তব্য এখনো পর্যন্ত প্রদান করেনি, যদিও বইটি প্রকাশের ৪ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। বাংলা একাডেমী ও এর মহাপরিচালক এবারে সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে নিয়েছেন।
ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে সুদখোর মহাজনদের সাথে তুলনা শুধু বদরুদ্দীন উমরই করেননি। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে ভূরিভূরি প্রমাণ রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি যে, নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর পরই, বিশেষ করে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের সামরিক সরকারের আমলে, ইউনূস চট্টগ্রাম বন্দর ‘মুক্ত’ করে সেটিকে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়ার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে এমনভাবে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আওয়াজ তুলেছিলেন যাতে চট্টগ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নৌ-ঘাঁটি স্থাপনের সুবিধা হয়। তিনি কোনো শর্তের উল্লেখ না করেই সাম্রাজ্যবাদী ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার পক্ষে ঢালাওভাবে বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল যে, ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশের ভাগ্য খুলে যাবে। এসব কারণেই ইউনূস এদেশের জনগণের কাছে সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ট হিসেবে চি‎িহ্নত হয়েছেন।
বাংলা একাডেমী ও এর মহাপরিচালক মুহম্মদ ইউনূসের ‘সম্মান’ রক্ষার দায়িত্বভার গ্রহণ করে, সাম্রাজ্যবাদের এক চি‎‎িহ্নত এজেন্টকে রক্ষার চেষ্টা করে, ভাষা আন্দোলনের জাতীয় প্রতিরোধ চেতনা বিরোধী যে অবস্থান গ্রহণ করেছেন জনগণ তার যথোপযুক্ত জবাব দেবে। বিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাঙলাদেশ লেখক শিবির
২৩/২/২০১১

ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য’ বইমেলায় বাংলা একাডেমী তথ্যকেন্দ্রের রেজিস্টার খাতায় অন্তর্ভুক্ত না করা প্রসঙ্গে
লেখক বদরুদ্দীন উমর এর বক্তব্য

বাংলা একাডেমী বইমেলার তথ্যকেন্দ্র আমার বই ‘ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য’ বইমেলায় রেজিস্টার খাতায় অন্তর্ভুক্ত না করা এবং বাংলা একাডেমী বইমেলায় আনীত বই হিসাবে ঘোষণা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বইটির বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য প্রদান করে বলেছে যে, ইউনূসের বিরুদ্ধে কোন বই তাদের মেলায় স্থান পাবে না। এর থেকে বোঝা যায়, ইউনূস তার জাল কত বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে রেখেছেন। বাঙলাদেশে সব থেকে বিপজ্জনক সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ট হিসেবে ইউনূস দীঘদিন কাজ করে এসেছেন। গ্রামীণ গরীব নারীদের পরিত্রাতা হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে তাদের ওপর নির্মম শোষণ চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রসমূহ ও বাঙলাদেশসহ অন্যান্য দেশে তাদের এজেন্টরা এ কারণেই এখন ইউনূসকে জনগণের রোষ থেকে রক্ষার জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। তারা ‘গ্রামীণ-এর বন্ধু’ ঋৎরবহফং ড়ভ এৎধসববহ নামে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন খাড়া করেছে যার সদস্য বাঙলাদেশেও আছে। কয়েকদিন আগে হিলারী ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি টেলিফোন করে ইউনূসের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশ, বিশেষতঃ ইউরোপীয়রাও ইউনূসের পক্ষে সমর্থন জ্ঞাপন করেছে। এসব থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, ইউনূস বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের কত বড় শত্র“। গণশত্র“ হিসেবে তিনি যদি তাঁর ব্যাংকিং ব্যবস্থা বানিয়ে না যেতেন এবং সাম্রাজ্যবাদীরা তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে গড়ে না তুলতো তাহলে তারা এভাবে তাঁকে রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতো না। এ কারণেই ইউনূসের কর্মকাণ্ডের চরিত্র জনগণের কাছে বিস্তারিতভাবে উদঘাটন করা বাঙলাদেশে এখন জরুরি হয়েছে। এই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই আমি ‘ডক্টর ইউনূসের দারিদ্র্য বাণিজ্য’ নামক বইটিতে অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলিতে করেছি। দুর্নীতির মাধ্যমে ইউনুস তার চক্রান্তের জাল কত বিস্তৃতভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে রেখেছেন বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আমার বইটির বিরুদ্ধে উপরোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়েই তা খুব স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। আমি বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেশবিরোধী ও গণবিরোধী এই কাজের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি।

বদরুদ্দীন উমর
১৯.২ .২০১১

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: